নদে ধসে পড়ছে ২৮ কোটি টাকার বেড়িবাঁধের ব্লক

  • শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের বেড়িবাঁধে হঠাৎ করেই শুরু হয়েছে ধস
  • দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদের পাড়ে বসবাসকারী মানুষজন
  • নদের গভীর থেকে বালু তোলায় এই ভাঙন
আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০২৪, ০১:০০ পিএম

মাদারীপুরের শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের বেড়িবাঁধে দেখা দিয়েছে ধস। উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের কলাতলা এলাকায় নদের বেড়িবাঁধে ধসটি দেখা দিয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদের পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ। 

জানা গেছে, শিবচর উপজেলাকে রক্ষার জন্য ৩৮১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালে সেই প্রকল্পের মাধ্যমে ১৭০ কোটি টাকায় নদীতে ড্রেজিং এবং ২১১ কোটি টাকার তীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করে খুলনা শীপইয়ার্ড নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে কাজটি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে বহেরাতলা ইউনিয়নের এক কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে শেষ হয়। আর সেই অংশেই হঠাৎ ধসে পড়ে। বাঁধের প্রায় ২৫ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

এলাকাবাসীরা জানান, কিছু অসাধু ড্রেজার ব্যবসায়ী ওই বাঁধের চারপাশে ৪-৫টি ড্রেজার বসিয়ে রাতদিন বালু কেটে নিতেন। এ বিষয়ে প্রশাসন বেশ কয়েকবার ওই স্থানে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার বিনষ্ট করে। নদের গভীর থেকে বালু কাটায় এই ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। 

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিবচর উপজেলার ভাঙনকবলিত জনপদের মানুষ কয়েক যুগ ধরে শুধু নদী ভাঙনের খেলায় নিঃস্ব হয়ে গেছে। এই বাঁধকে কেন্দ্র করে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন তারা। কিন্তু হঠাৎ বাঁধ ধসের কারণে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে ধরা দিয়েছে। তাই বাঁধ ধসের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে তার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি শিবচরবাসী ও সচেতনমহলের। 

হাজেরা বেগম নামে বাসিন্দা বলেন, ‘আমার ছেলে-মেয়ে নেই। আগেও একবার আমার বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এরপর অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটি করেছি। এটি যদি ভেঙে যায় তাহলে আমার থাকার আর কোনো জায়গা থাকবে না।’

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সানাউল কাদের খান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিদর্শন করি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। ড্রেজারে মাটি কেটে নেওয়ার ফলে বেড়িবাঁধটি ধসে গেছে। বিষয়টি এরই মধ্যে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি। ধস প্রতিরোধে আমরা স্থানটিতে জিও ব্যাগ ফেলার কার্যক্রম শুরু করেছি।’   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত