ধীরগতিতে চলছে গোমতীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ 

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৩:৩২ পিএম

ধীরগতির চলছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর পানির চাপে ভেঙে যাওয়া বাঁধ মেরামতের কাজ। কাজের অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কাজ শুরু ৪৬ দিনে ৩২-৪০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
 
এ দিকে বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ড কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, কাজ শুরুর মাঝখানে বৃষ্টি হয়ে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কাজ বন্ধ ছিল। আশা করছি চলতি বছরের ডিসেম্বর বা পরের বছের জানুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। 

নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান বলেন, প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণের কাজ চলছে। তার মধ্যে ৯০ লাখ টাকা পেয়েছি। আমরা পরিকল্পনা করেই কাজ এগিয়ে নিচ্ছি। তাই বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বাঁধ মজবুত করেই নির্মাণ করা হচ্ছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানি ও টানা বৃষ্টিতে গত ২২ আগস্ট রাত পৌঁনে ১২টার দিকে হঠাৎ বুড়বুড়িয়া এলাকায় বাঁধটি ভেঙে পড়েছিল। এতে তলিয়ে যায় পুরো বুড়িচংসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা। ওই সময় থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আগে সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করত। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় মানুষকে বিকল্প পথে অনেক দূর ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।

জানা যায়, বুড়বুড়িয়া এলাকায় অন্তত ১১০ মিটার বাঁধ ভাঙা থাকায় প্রায় তিন মাস ধরে বন্ধ আছে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পালপাড়া থেকে বুড়িচংয়ের কংশনগর পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়কটি। সড়কটি দিয়ে কুমিল্লা শহর থেকে বুড়িচং সদর এবং কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে সহজে চলাচল করতো। বর্তমানে চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে মেরামতের কাজ পান মেসার্স চৌধুরী ট্রেডার্সের নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কৃষাণ দত্ত চৌধুরী ওরফে মুন্না। কাজ শুরু করার ৪৫ দিনে ৩২-৪০ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেন। হালচাষের ট্রাক্টরে ট্রলি লাগিয়ে গোমতী নদীর চর থেকে মাটি এনে ভেঙে যাওয়া বাঁধের পশ্চিম পাশে ফেলা হচ্ছে। প্রায় ৫০০ মিটার দূরে চরের মধ্যে খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এরপর এসব মাটি আনা হচ্ছে ট্রাক্টরে করে। ভেঙে যাওয়া বাঁধের পাশেই রয়েছে পুরোনো গোমতী নদীর একটি অংশ। সেখান থেকে ড্রেজিং করে আনা বালু ফেলা হচ্ছে মূল বাঁধের পাশের গর্তগুলোতে। এভাবে স্তরে স্তরে পেলা হচ্ছে মাটি। ধীরগতিতেই বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

এ বিষয়ে ঠিকাদার কৃষাণ দত্ত চৌধুরী বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে সবকিছু প্রস্তুত করলেও আমরা মূলত কাজটি শুরু করি কয়েকদিন আগে। এর মাঝে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় কাজ করতে সমস্যায় হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, কাজে ধীরগতির মূল কারণ হলো গোমতী নদীর চরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জায়গা থেকে মাটি আনতে হচ্ছে। মূল বাঁধটা মাটি দিয়েই নির্মাণ করতে হবে। চরে এখনো পানি ও কাদামাটি, যে কারণে ঠিকভাবে মাটি কাটা ও পারাপার করা যাচ্ছে না। আর মূল বাঁধের পাশে বিশাল আকৃতির কিছু গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো জেলা প্রশাসনের অনুমতিতে মরা গোমতী থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে আনা বালু ফেলে ভরাট করা হচ্ছে। সামনে বৃষ্টি না হলে আমরা কাজটি দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতে পারব বলে আশা করছি। আাশা করছি ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে সড়কটি দিয়ে যান চলাচল শুরু করা যাব।

এ বিষয়ে শাহ আলম ও ইয়াছিন বলেন, গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে এবার স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা দেখেছে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াবাসী। এখনো ভেঙে যাওয়া বাঁধটি দেখলে আঁতকে ওঠি। তাই জোড়াতালি দিয়ে নয়, শক্ত ও মজবুতভাবে বাঁধটি মেরামত করা হোক, এটাই তাদের দাবি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত