জেলা প্রশাসক হয়েও গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বজন ও আহতদের আস্থার ঠিকানা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৪:১১ পিএম

রাজবাড়ী জেলার নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা হয়ে উঠেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্বজন এবং আহতদের একান্ত আস্থার ঠিকানা। তাদের সবার শেষ ভরসার স্থল যেন এখন নবাগত জেলা প্রশাসকই। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের একাধিক স্বজন এবং আহতরা এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের মাত্র দুই দিনের মাথায় গত মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানখানাপুর নতুন বাজার এলাকায় শহীদ আব্দুল গণির বাড়িতে গিয়ে শহীদের বিধবা স্ত্রী লাকী আক্তার, শিশু সন্তান জান্নাত আক্তারের সঙ্গে দেখা করেন। উপহার দেন নতুন পোশাক উপহার। এ ছাড়া শহীদ গণির পরিবারের সদস্যদের জন্যও নিয়ে যান বিভিন্ন ধরনের ফল ও নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।

গতকাল বুধবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ধুলিয়াট গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে রাজীব খান এবং জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার নলডুপি গ্রামের আব্দুল হক শেখের ছেলে গার্মেন্টস শ্রমিক আমির হামজাকে নিজের অফিসে ডেকে আনেন তিনি। তাদের অসুস্থতার খবর নেন। তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। জেলা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সাহায্য করার আশ্বাস দেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার আবার ছুটে যান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বিলটাকাপোড়া গ্রামে শহীদ সাগর আহমদের কবর জিয়ারত এবং তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে। নগদ ২০ হাজার টাকার সরকারি অনুদানও দেন এই কৃষক পরিবারকে। শহীদ সাগরের মা গোলাপি বেগমের জন্য শাড়ি, বাবা মো তোফাজ্জল হোসেনের জন্য পাঞ্জাবি এবং বোনের জন্যও নতুন পোশাক নিয়ে যান।

এ সময় বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাসিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি, সহকারী কমিশনার অংকন পাল ও বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গিয়ে রাজধানীর মিরপুর গোলচত্বরে গুলিতে শহীদ হন সাগর। তিনি সরকারি বাংলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। শহীদ সাগরের মা গোলাপী বেগম এই প্রতিবেদককে টেলিফোনে বলেন, ডিসি স্যার আজ এসেছিলেন আমাদের বাড়িতে। উনি আমাদের যে কোনো দরকারে জানাতে বলেছেন এবং পাশে থাকার ওয়াদা করেছেন।

সাগরে বাবা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমার ছেলে শহীদ সাগরের কবর জিয়ারত করার সময় আমি পুরো কবরস্থানের চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল করার দাবি জানিয়েছিলাম ডিসি স্যারের কাছে। আমার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আমাকে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি আবেদন করতে বলেন। বিষয়টি দ্রুত বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয় মনসুর আলী কলেজের শিক্ষক এ কে এম আসাদুজ্জামান বলেন, এই ডিসি স্যারকে আমার অন্যদের চেয়ে আলাদাই মনে হয়েছে। উনার আচরণে মনে হয় উনি রাজবাড়ী জেলার প্রশাসক হিসাবে আসেন নাই, এসছেন রাজবাড়ী জেলার একজন সেবক হিসেবে। জেলা প্রশাসক আসবেন, আবার চলেও যাবেন। কিন্তু এই জেলা প্রশাসকের এমন জনবান্ধব কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে, তাকে রাজবাড়ীবাসী সারাজীবন আলাদাভাবে মনে রাখবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত