শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ঢাবিতে সিন্ডিকেট মিটিং পণ্ড

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৪, ১১:১৩ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মিটিং চলাকালে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। বুধবার (১৩ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব আলী চৌধুরী সিলেট ভবনে সন্ধ্যার পর মিটিং বসে। এ সময় সিন্ডিকেট মেম্বাররা তাদের নির্ধারনী কাজ করছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে শিক্ষার্থী বিরোধী অবস্থানের জন্য বিতর্কিত হয়ে পড়ে এই সিন্ডিকেট বডি। এরই জেরে শিক্ষার্থীরা পণ্ড করে দেয় সিন্ডিকেট মিটিং।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মিটিং চলছে এমন খবর জানতে পেরে শিক্ষার্থীদের একাংশ মধুর ক্যান্টিনে জমা হতে থাকে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিল সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।

সংগঠিত ছাত্রদের একটি অংশ মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল করতে করতে নবাব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যেখানে সিন্ডিকেট মিটিং চলছে সেখানে যায়। ফলে ভেস্তে যায় মিটিং। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করে। 

এ বিষয়ে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু বলেন, এই সিন্ডিকেট শেখ হাসিনার দুঃশাসন টিকিয়ে রাখতে শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। গত ১৭ জুলাই ঢাবি সিন্ডিকেটের এই সদস্যদের মিটিংয়েই পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও সোয়াত দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস এবং আবাসিক হল বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিন্ডিকেট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। এমনকি এই সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীরা এখনো নিরাপত্তহীনতায় আছে।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম না মেনে গঠিত এই সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য বিনা ভোটে নির্বাচিত। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ব্যাপক দলীয়করণ করা হয়েছে। তাই এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নতুন সিন্ডিকেট গঠন করতে হবে। দলীয় আনুগত্যের বিবেচনায় সিন্ডিকেট গঠন করা যাবে না। সিন্ডিকেটে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নেই, সিন্ডিকেটে অবশ্যই শিক্ষার্থী প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করা দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত