উত্তাল মণিপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে হামলা, পুনরায় কারফিউ জারি-ইন্টারনেট বন্ধ

  • মণিপুর রাজ্যের তিনজন মন্ত্রী ও ৬ জন বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে
  • ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে বিক্ষুব্ধ জনতা, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেও হামলা
আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২৪, ১২:২৭ পিএম

নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। অপহৃত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে জনতা। এরই জেরে রাজ্যটির তিনজন মন্ত্রী ও ৬ জন বিধায়কের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এমনকি সহিংসতার আঁচ পৌঁছে গেছে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের বাড়িতেো হামলার চেষ্টা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় দরজা ভেঙে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা।

বিক্ষোভকারীদের থামাতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যেজুড়ে পুনরায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট। খবর এনডিটিভি ও আনন্দবাজার।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, শুক্রবার জিরিবামের একটি নদী থেকে ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন শনিবার পাওয়া গেছে অন্য তিনজনের মরদেহ।

ধারণা করা হচ্ছে মরদেহগুলো মেইতেই সম্প্রদায়ের। গত সপ্তাহে জিরিবাম জেলায় মণিপুর পুলিশ ও কুকি বিদ্রোহীদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। ওই ঘটনার পর তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছিল। গত সোমবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তারা।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলছে, মরদেহগুলো উদ্ধারের পর মণিপুরে মন্ত্রী-বিধায়কদের বাড়িতে হামলার পর মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের বাড়িতেও হামলার চেষ্টা করে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। দরজা ভেঙে জোর করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে বিক্ষোভকারীরা। তাদের প্রতিহত করতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে।

শনিবার বিক্ষোভকারীরা টায়ার জ্বালিয়ে রাজধানী ইম্ফলের সড়ক অবরোধ করেন। এরপর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় শহরে কারফিউ জারির ঘোষণা দেয় মণিপুর সরকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দুই দিনের জন্য মণিপুরের ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মূলত গত বছরের মে মাস থেকে জাতিগত দাঙ্গার কারণে উত্তপ্ত মণিপুর। তবে কুকি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে গত সপ্তাহ থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যটিতে।

সংঘর্ষে ১০ জন কুকির মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছিল। এরপরই জিরিবাম জেলা থেকে মেইতেই সম্প্রদায়ের একই পরিবারের তিন নারী এবং তিন শিশুকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছিল সন্দেহভাজন কুকি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে। গত দুই দিনে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আনন্দবাজারের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে কুকি এবং মেইতেই সম্প্রদায়ের সংঘাতে উত্তপ্ত মণিপুর। সহিংসতার কারণে এখন পর্যন্ত ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। নিহত হয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত