রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড এলাকার একটি বাসা থেকে ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা এক সপ্তাহ পার হলেও চোর শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। প্রথমে চুরির ঘটনায় মামলা নিতেও গড়িমসি করছিল নিউ মার্কেট থানা পুলিশ। প্রকাশ্যে টাকা, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন থাকলেও কৌশলে আলমারি খুলে স্বর্ণ চুরি করা হয়। ওই ভবনে সিসি ক্যামেরা না থাকায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে কাজ করছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তবে এ চুরির ঘটনায় মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার সন্দেহের তীর বাড়িওয়ালার ছেলের দিকে।
জানা গেছে, এলিফ্যান্ট রোডের ১০৭/এ ভবনের পঞ্চমতলার পূর্ব পাশের বাসায় গত ৬ নভেম্বর দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে চুরির ঘটনা ঘটে। পরিবারের সব সদস্য নিজ নিজ কাজে বাসার বাইরে ছিলেন। ওই ভবনের ষষ্ঠতলায়ও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে শোনা গেছে। তবে ওই বাসার কোনো মালপত্র খোয়া গেছে কি না, তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই ভবনের পশ্চিম পাশে থাকতেন বাড়িওয়ালার ছেলে। ভবনের তৃতীয়তলায় একটি গ্রিলের গেট রয়েছে, যা সবসময় তালা দেওয়া থাকে। ওই গেটও ভাঙা বা কাটা হয়নি। কিন্তু চুরি হয়েছে পঞ্চম ও ষষ্ঠতলায়। এদিকে চুরির ঘটনা ৬ নভেম্বর হলেও মামলা নথিভুক্ত হয়েছে ১৩ নভেম্বর। প্রথমে এ চুরির ঘটনায় মামলা নিতে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ গড়িমসি করেছে বলেও জানায় মামলার বাদী মনিরা মুসা।
মামরার তদন্ত কর্মকর্তা নিউ মার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরব আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মামলার দায়িত্বভার পাওয়ার পর থেকে তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। ওই ভবনে সিসি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তে একটু ধীরগতি ছিল। তবে আমরা ওই বাসার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে কাজ করছি। সিআইডির সহযোগিতায় আলমারিসহ আশপাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়া হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ওই ভবনের কয়েকজনের সঙ্গে মেলানোর জন্য আদালতের অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পেলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেলালে আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই এ চুরির রহস্য উদঘাটন করা যাবে।
বাদী মনিরা মুসা মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ২ নভেম্বর এলিফ্যান্ট রোডের ওই বাসায় ছেলে ও মেয়েকে রেখে ব্যক্তিগত কাজে নিজ গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে যান। গত ৬ নভেম্বর সকালে মুন্সীগঞ্জ থেকে ঢাকা উত্তরায় ভাইয়ের বাসায় যান তিনি। ওইদিন মনিরার মেয়ে সাদিয়া মাসুদ মুন সকাল সাড়ে ৭টায় মেডিকেল কলেজের উদ্দেশে বের হন ও ছেলে সাদি মোহাম্মাদ মেরাজ পৌনে ৯টায় বাসার দরজায় তালা দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ে যান। মুন বিকেল পৌনে ৪টায় থেকে বাসায় ফিরলে দেখেন ভবনটির তৃতীয়তলায় গ্রিল গেটে তালা লাগানো। সেই তালা খুলে ওপরে উঠতেই দেখেন বাড়ির মালিক মো. সাইদুর রহমান অপু (৬০) দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করেন, আমার মেয়ে মুন দরজার সামনে গেলে অপু (বাড়িওয়ালা) বলেন, ষষ্ঠতলা ও তোমাদের বাসায় চুরি হয়েছে। ভেতরে গিয়ে দেখো কী কী চুরি হয়েছে। আমার মেয়ে ভেতরে ঢুকে দেখে টেবিলের ওপরে দরজার ভাঙা তালা পড়ে আছে। বাসার স্টিলের আলমারি ও কাঠের আলমারি খোলা কিন্তু অন্যান্য জিনিসপত্র স্বাভাবিক আছে। ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন ও টাকা পাশেই যেমন ছিল তেমনি আছে। সোফার ওপর স্টিলের আলমারির দুটি খালি ড্রয়ার পড়ে আছে। স্টিলের আলমারির সব কাপড়চোপড় সাজানো-গোছানো আছে। আলমারি না ভেঙে কৌশলে তালা খুলে আলমারির ড্রয়ারের পাশে রক্ষিত ৬০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৭৮ লাখ টাকা। চুরির ঘটনা বাড়িওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, আমি বাসায় ছিলাম। পঞ্চম ও ষষ্ঠতলার দরজার তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে শুনেছি। তবে কোনো প্রকার তালা ভাঙার শব্দ শুনতে পাইনি।
চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মনিরা মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, চুরির ঘটনা ঘটলেও বাড়ির কোনো স্থানে ভাঙা বা কাটা হয়নি। কৌশলে শুধু আলমারির তালা খোলা হয়েছে। আলমারির ড্রয়ারে এক স্থানেই গয়না রাখা ছিল। চাওয়ার চেয়ে বেশি পাওয়ায় অন্য কোনো কিছুতে হাত দেয়নি চোর। আমি চাই দ্রুত এ ঘটনার তদন্ত শেষ করে অলংকার উদ্ধার করা হোক।
