ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলের আগ্রাসনের সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল। যুদ্ধে বিপর্যস্ত ও প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিটমহলটিতে শান্তি ফেরাতে ইসরায়েল ও হামাস দুপক্ষের ওপরই চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এ সময় ইইউ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংলাপ স্থগিতের প্রস্তাব দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। গতকাল সোমবার ইইউ বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, অনেকেই গাজার যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু সে চেষ্টা এখনো সফল হয়নি। শিগগিরই তা সম্ভব হবে বলে মনেও হচ্ছে না। তাই আমাদের ইসরায়েলি সরকারের পাশাপাশি হামাসের ওপরও চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
এর আগে গত সপ্তাহেও গাজা যুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইইউ’র এই শীর্ষ কূটনীতিবিদ ইসরায়েলের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ স্থগিতের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তার এই প্রস্তাব ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সব রাষ্ট্রের সমর্থন নাও পেতে পারে। সোমবার ডাচ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাসপার ভেল্ডক্যাম্প বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ইইউ’র সংলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি বলেন, স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনার দরজা খোলা রাখা উচিত বলে বিশ্বাস করে নেদারল্যান্ডস। ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তবে গাজা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইইউ’র মানবাধিকার সংক্রান্ত উদ্বেগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংস্থাটির পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেলের নতুন প্রস্তাবে সদস্যদের মতের ভিত্তিতে ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বৈরুতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি অ্যামোস হোচেস্টেইন। দেশটিতে ইসরায়েলের আক্রমণ আরও জোরদার হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধবিরতি আলোচনা আবারও গুরুত্ব পাচ্ছে। এবারের আলোচনায় বৈরুত তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের ভিত্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে হবে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী ২০০৬ সালে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান হয়েছিল। তবে ইসরায়েলের কিছু দাবির কারণে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে আলোচনার দায়িত্ব লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবীহ বেরির কাছে হস্তান্তর করা হয়। শান্তি আলোচনার জন্য তাকে মনোনীত করেছে হিজবুল্লাহ।
