‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ প্রচারণা চালিয়েও ব্যর্থ বিজেপি

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম

বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও কংগ্রেসের জোটই আবার ক্ষমতায় ফিরছে। এই নির্বাচনের আগে প্রচারণায় 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের' নিয়ে ভোটারদের মাঝে ভীতি ছড়ানোর কৌশল নেয় বিজেপি। তবে শেষপর্যন্ত তা কাজে আসেনি। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এবারের ঝাড়খণ্ড নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছিল ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ’ ইস্যুটি। ভোট ঘোষণার আগে থেকেই ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নির্বাচনি সভাগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নিজেও বারবার বলেছেন যে বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীরা ঝাড়খণ্ডের আদিবাসীদের জমি দখল করে নিচ্ছে।

ওই রাজ্যে ভোটের প্রধান কৌশলী হিসাবে নিয়ে আসা হয়েছিল আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে। তিনি নিজের রাজ্যেও বারবার বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের ইস্যু তুলতে থাকেন।

প্রচারণায় বিজেপি নেতারা দাবি করেন, জেএমএম অনুপ্রবেশকারীদের লাল গালিচা বিছিয়ে রাজ্যে প্রবেশ করাচ্ছে। বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা ঝাড়খণ্ডে এসে আদিবাসী মেয়েদের বিয়ে করে তাদের জমি দখল করছে। 

তবে গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিন তদন্ত করেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা জায়গা-জমি দখল করে নিচ্ছে অথবা আদিবাসী নারীদের বিয়ে করে নিচ্ছে – বিজেপির তোলা এইসব প্রচারণার কোনও ভিত্তি খুঁজে পায়নি।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন মাত্র একবার বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন এবং সেখানেও বিজেপিকে পাল্টা প্রশ্ন করেছিলেন যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশের কথা বলা হচ্ছে, তাহলে কী করে সেদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে, কি করে তার বিমান ভারতের মাটিতে নামার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাহলে কী বাংলাদেশের সঙ্গে আসলে বিজেপিরই কোনও গোপন বোঝাপড়া আছে, প্রশ্ন তুলেছিলেন সরেন।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার হিসেব অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডের ৮১ আসনের মধ্যে ৫৩ আসনে জয় পেতে যাচ্ছে ইন্ডিয়া জোট। বিজেপি জয় পেয়েছে ২৬ আসনে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত