শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশে দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। বিগত তিনটি নির্বাচন তার জ¦লন্ত প্রমাণ। কাজেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যে নামেই ডাকা হোক না কেন, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্র্বর্তী সরকারের বিকল্প নেই। তাই নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।’
গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে ‘বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন : কার্যকর ও টেকসই সংস্কার’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। জাতীয় রাষ্ট্রচিন্তা পরিষদ (এনসিপিটি) এ সেমিনারটির আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুল লতিফ মাসুম। বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সেক্রেটারি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সব রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে গ্রাস করে ফেলেছিল। ছাত্র-জনতার এই বিপ্লবে রক্তের নদী বইয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পর ফ্যাসিস্ট নির্বাচনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করার জন্য তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনকে এ পরিবর্তন করতে হবে।
এ সময় অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিনাত আরা নাজনীন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে। স্বৈরাচারী আওয়ামী আমলে আমি নিজেও ভোট দিতে গিয়ে দেখেছি আমার ভোট হয়ে গেছে। অর্থাৎ কোনো মানুষ সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে পারেনি। জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর আমরা আশাবাদী হতে শুরু করেছি। এখন হয়তো অন্তর্র্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। আমরা আশা করছি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেজবাহ সওদাগর, জিয়াউর রহমান আর্কাইভের সহ-সম্পাদক শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন প্রমুখ।
