আশুলিয়ায় বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৪, ০৫:০৫ পিএম

শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় ৪ বছর আগে বন্ধ হওয়া লেনী ফ্যাশন ও লেনী অ্যাপারেলস নামক দুটি কারখানার শ্রমিকরা পাওনা টাকা পরিশোধের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। বেপজা কর্তৃপক্ষ পুলিশ ও সেনাবাহীনির সহায়তায় দফায় দফায় শ্রমিকদের সাথে আলোচনা করেও সমাধানে আসতে পারছেন না। পাওনা পরিশোধ করা না হলে কর্মসূচী চলবে বলে ঘোষণা করেছে ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। 

বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল থেকে দাবি আদায়ে ডিইপিজেডের মূল ফটকের সামনে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়ক অবরোধ করে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালনক করছেন তারা।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে তিন মাসের বকেয়া বেতন, আনলিভ, সার্ভিস বেনিফিটের দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শুরু করেন কয়েক হাজার শ্রমিক।
 
বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা জানায়, প্রায় চার বছর আগে ২০২১ সালে করোনার দোহাই দিয়ে লেনী ফ্যাশন কারখানা কর্তৃপক্ষ বকেয়া বেতন ও শ্রম আইন অনুযায়ী ২৬ (১) ধারায় পাওনাদি পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ করে দেয়। এরপর দেই, দিচ্ছি করে প্রায় চার বছর ধরে শ্রমিকদের সঙ্গে টালবাহানা করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ আগামী ৩০ নভেম্বর তাদের পাওনাদি পরিশোধের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৫ দিন আগে আরেকবার নোটিশ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেই নোটিশ না দেয়ায় পাওনা পরিশোধের দাবিতে ডিইপিজেড এর মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।

এদিকে শ্রমিকদের অবরোধের মুখে নবীনগর-চন্দ্র মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় যানজটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ।

অন্যদিকে সকালে ডিইপিজেডের পুরাতন জোনের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে এসে বিক্ষোভকারী শ্রমিকদের বাধায় ফিরে গেছেন। তবে নতুন ইপিজেডের শ্রমিকেরা কাজ করছেন। ফিরে যাওয়া এক শ্রমিক বলেন, গতকাল থেকে পুরাতন ইপিজেডের সামনে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করায় তাদের আজ সকাল ছয়টায় কারখানায় যেতে বলা হয়েছিল। ছয়টার দিকে গেটের সামনে যাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা ভেতরে ঢুকতে দেননি, তাই বাসায় চলে গেছেন। 

আন্দোলনকারী শ্রমিক ঝরনা আক্তার বলেন, আমরা কাল থেকে কষ্ট করতেছি তারপরেও বেপজা কর্তৃপক্ষ কোনো সমাধান করছে না। আমাদের একটাই দাবি আমরা এখান থেকে টাকা নিয়ে যাবো। আমাদের বলা হইছিলো ৩০ নভেম্বর টাকা দিবো, যদি দিতো তাহলে আর এরকম ঝামেলা করতে হতো না। যেহেতু তারাও ঝামেলা করতেছে আমরাও আমাদের ঝামেলা নিয়ে গতকাল থেকে এখানে বসে আছি। আমরা আমাদের টাকা নিয়ে এখান থেকে ঘরে ফিরবো।

আন্দোলনরত লেনী অ্যাপারেলস লিমিটেডের শ্রমিক আলেয়া বেগম বলেন, প্রায় চার বছর আগে করোনার দোহাই দিয়ে কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে দেয়। ‘আমরা বেপজা কর্তৃপক্ষকে তিনটি দাবি দিয়েছিলাম। কিন্তু এসব দাবি মানা হচ্ছে না। তিন মাসের বকেয়া বেতন, আনলিভ, সার্ভিস বেনিফিট এর দাবিতে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। দাবি আদায়ের আগ পর্যন্ত তাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

বেপজার নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) আনোয়ার পারভেজ বলেন, কারখানা বিক্রির পদ্ধতি, আইনি প্রক্রিয়া এবং বকেয়া পরিশোধের পদ্ধতির বিষয়টি শ্রমিকদের জানানো হচ্ছে। তাদের আশ্বস্ত করা হচ্ছে, যখনই লেনী ফ্যাশন কারখানাটি বিক্রি করা সম্ভব হবে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ ১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের বিষয়ে বেপজা কতৃপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা চলছে। এছাড়া শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত