দাম বৃদ্ধির অজুহাতে টানা তিনদিন বন্ধের পর আবারো স্লট বুকিং শুরু করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতে করে দুদিন বন্ধের পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ, আলুসহ সবধরনের পণ্য আমদানি শুরু হয়েছে। তবে দুদিন ঢুকতে না পারায় পেঁয়াজ ও আলুতে পঁচন ধরেছে দাবি আমদানিকারকদের। এ দিকে পণ্য দুটি আমদানি শুরুর ফলে দাম কমে আসবে বলেও দাবি তাদের।
বুধবার (২৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় ভারত থেকে পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাক প্রবেশের মধ্য দিয়ে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি- রপ্তানি শুরু হয়। এর আগে দাম বৃদ্ধির অজুহাতে গত রবিবার হঠাৎ করেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয়। ওই দিন বন্দর দিয়ে পুর্বের স্লটে পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি করেছিল তারা। সোমবার পুর্বের স্লটে দুই ট্রাক আলু রপ্তানি করলেও কোন পেঁয়াজ রপ্তানি করেনি তারা তবে অন্য পণ্য রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। মঙ্গলবার সকালের পেঁয়াজ আলু রপ্তানি না করলেও অন্য ৫ ট্রাক পণ্য রপ্তানি করে। স্লট বুকিং চালু না করায় এর প্রতিবাদে গতকাল সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বন্দর দিয়ে সকল পণ্য রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা।
ভারতের হিলি সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট অনিল সরকার বলেন, রবিবার হঠাৎ করেই পশ্চিম বঙ্গ সরকার পেঁয়াজ ও আলুর স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয়। ওই দিন বন্দর দিয়ে পুর্বের স্লটে পেঁয়াজ ও আলু রপ্তানি করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক দফা বৈঠকের পরেও গতকাল পর্যন্ত স্লট বুকিং চালু না করায় গত দুদিন পণ্য দুটি রপ্তানি সম্ভব হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের কোনো আলু রপ্তানি করবে না মর্মে মুচলেকা দিতে হবে এমন শর্তে গতকাল রাত ১টায় স্লট বুকিং চালু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এতে করে আজ থেকে ওই দুটি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে আর কোন সমস্যা নেই।
হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন, রবিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাদের প্রদেশে আলু ও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে রপ্তানি বন্ধ করতে পণ্যদুটির স্লট বুকিং বন্ধ করে দেয়। এতে করে আমরা যারা আমদানিকারক রয়েছি আলু ও পেঁয়াজ ক্রয় করেছি ভারতে সেসব পণ্য গত দু থেকে তিন দিন ট্রাক বোঝাই অবস্থায় ছিল। এতে ওইসব পণ্যের মান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে বিশেষ করে নতুন আলু যেসব ট্রাকে লোডিং ছিল সেগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। এতে করে এসব পণ্যের মান খারাপের কারণে লোকসান গুনতে হবে। আমরা সেদিনের পর থেকেই পণ্য দুটি রপ্তানি করতে স্লট বুকিং চালু করার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলাম ভরতীয় ব্যবসায়ীদের। এছাড়া তারা যে কথা বলছে পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদিত আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানি করতে দিবে না। এটাতে কোনো সমস্যা নেই আমরাতো অন্য প্রদেশ থেকে আলু ও পেঁয়াজ আমদানি করছি।
হিলি স্থলবন্দরের আলু আমদানিকারক সাহাবুল ইসলাম বলেন, আমার নিজের ২০ ট্রাকের মত নতুন আলু কিনা ছিল যা এখনো ভারতের রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে দেশে প্রবেশের অপেক্ষায়। যেহেতু নতুন আলু বেশি পঁচনশীল এতে করে গত দুই থেকে তিন দিন স্লট না পাওয়ার কারণে আমার সেইসব আলু নষ্ট হয়ে গেছে বলে ধারণা করছি। আজকে স্লট পেয়েছি সেই আলুগুলো আজ বাংলাদেশে প্রবেশ করা শুরু হয়েছে। বন্দরে ঢোকার পর বুঝতে পারবো কতটুকু পঁচছে বা কতটুকু ভালো রয়েছে। কিন্তু গত দুই থেকে তিনদিন না ঢোকার কারণে আলুর যে অবস্থা হয়েছে তাতে করে সেগুলো বিক্রি করে চালান উঠবে কিনা সংশয় রয়েছে। ভারতীয় সরকার হঠাৎ করে রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়াতে আমাদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে ফেলে দিয়েছে।
হিলি কাস্টমস সি আ্যন্ড এফ এজেন্ট আ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, আলু ও পেঁয়াজ রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্লট বুকিং বাতিল করে দিয়েছিল যার কারণে গত দুদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আলু আমদানি হয়নি। গতকাল রাতে আবারো স্লট বুকিং চালু করার কথা জানিয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। সেক্ষেত্রে তারা আমাদের জানিয়েছেন আগামী শনিবার পর্যন্ত আলু আসবে সেই সাথে বাকি থাকা আলুর স্লট যতক্ষণ শেষ হবে না সেটি পরবর্তী দুয়েকদিন চালু রাখবে। তবে পেঁয়াজ স্বাভাবিকভাবে রপ্তানি চলবে বলে জানিয়েছেন। ইতোমধ্যেই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি শুরু হয়েছে।
৪৬তম বিসিএস প্রিলির ফল প্রকাশ
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের শরণার্থীদের এক জায়গায় আনতে চায় মিজোরাম
চিন্ময় ইস্যুতে ভারতের বিবৃতিকে ‘অনধিকার চর্চা’ বললেন তথ্য উপদেষ্টা
হোটেল থেকে ভ্লগার তরুণীর মরদেহ উদ্ধার