রাজধানীর খিলগাঁওয়ে ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বোন খুন হয়েছেন। নিহতের নাম রুমি আক্তার (৩৫)। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন তাদের আরেক ভাই মো. বাবুল (৫৫)। ঘটনার পর ঘাতক সালামকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ।
আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খিলগাঁও পশ্চিম নবীনবাগের একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত রুমিকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। কুমিল্লা বরুরা থানার আবুল হাসেমের মেয়ে রুমি। পরিবারটি নবীনবাগের ওই বাসায় থাকেন।
স্বজনরা জানান, তিন ছেলের মা রুমি। ২-৩ বছর আগে তার স্বামী জহির অন্য একটি বিয়ে করে তাদের ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে ৩ ছেলেকে নিয়ে নবীনবাগে বাবার বাসায় থাকতেন। অন্যের বাসায় কাজ করতেন রুমি।
ঘাতক সালামের স্ত্রী জুলেখা আক্তার জানান, তার স্বামী সালাম আগে অটোরিকশা চালালেও বর্তমানে বেকার। কোনও কাজ করেন না তিনি। এ ছাড়া নিয়মিত মাদক সেবন করেন। এ নিয়েই প্রতিদিনই স্বামী-স্ত্রী মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। দুই সপ্তাহ আগে এসব নিয়ে সালাম স্ত্রী জুলেখাকে মারধর করেন। তখন পারিবারিক শালিশে বিষয়টি মীমাংসা হয়।
তিনি জানান, এরপরও তিনি কোনও কাজ করেন না। দুইদিন ধরে তাদের বাসায় বাজার নেই। এ নিয়ে বুধবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় এবং ছেলে মেয়েকে নিয়ে জুলেখা বাবার বাড়িতে চলে যাবেন বলে জানান। তখন সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে ঝগড়া শুরু করেন। বড় ভাই বাবুলকে বলেন তার স্ত্রীকে আটকাতে। তখন বড় ভাই বাবুলও তার বিরোধিতা করে বলেন, নেশা করা না ছাড়লে স্ত্রী চলে যাবেই। এই কথা বলাতে ঘর থেকে ধারাল ছুরি এনে বড় ভাই বাবুলকে আঘাত করেন সালাম। এটি দেখে ফেরাতে যান ছোট বোন রুমি। তখন রুমির পিঠেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
খিলগাঁও থানার ওসি দাউদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাই তার ছোট বোনকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাবুল আহত হয়েছেন। ঘাতক নিহতের ভাই আব্দুস সালামকে আটক করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অবৈধ সম্পদ অর্জন, শ্রমিক লীগ নেতার ১৩ বছর জেল
কুষ্টিয়ায় ট্রলির ধাক্কায় প্রাণ গেল ননদ-ভাবির