ঠকবাজির চড়কমেলা
সন্দেহ জাগে ভয়ও লাগে
ফাঁদে পা দিচ্ছি না তো?
আস্থা জাগে না প্রতীতিও জন্মে না
নির্ভরতা নড়বড়ে!
দ্বিধা থাকে কাঁপাজ¦রে!
ঠকতে ঠকতে ত্রাহি অবস্থা!
ঘাড়ে জমে অসহ্য যন্ত্রণার বস্তা!
ঠকরাজ্যের সীমানা বেড়েছে
তার মধ্যে আমারও বসবাস!
উধাও হয়ে যাচ্ছে গাইগরুর
অবশিষ্ট ঘাস!
ঘাস চোর কারা?
কানেস্তারা বাজিয়ে বাজিয়ে
ঠকবাজির চড়কমেলাও বসে,
এখানে ওখানে!
চোখও হয় চড়কগাছ!
ভাজা হয়ে যায় কার জন্য
কার পুকুরের মাছ?
কাতরানি ও কাতরানোর শব্দ
কাদায় কাদায় লেপ্টে লেপ্টে
হারিয়েও যায়!
কান্ডজ্ঞান কি লুপ্ত হলো?
কান্ডারিরা গেল কোথায়!
সর্বস্ব হারিয়ে ফে ফে ঘুরে বেড়াবো?
আর সারিন্দা বাজাবো নদীরও কূলে?
মূঢ়ত্ব
নিজের সাথেই বোঝাপড়া করি
তারপর নড়ি কিংবা লড়ি!
নিজেকে বোঝাতে পারলাম না,
ঢোল পেটালেই জড়ো হবো?
আহম্মকের তালুকদারিতে বসবাস করতে করতে
আরও গন্ডমূর্খ হতে থাকব?
অক্ষরজ্ঞান ও প্রজ্ঞা শুধু স্কুলে নয়
দুপুরবেলায় রোদে পুড়ে শিখেছে অনেকে!
তবু দূরগৃহে যাই কেন?
আঁখিপাত-দৃষ্টিপাত না থাকলে
বৃষ্টিপাতের মর্মার্থ কতটুকু বুঝতে পারব?
নিজের ভেতর বিস্ময় ও জিজ্ঞাসা কিছুই নেই,
অনুসন্ধান ও সন্দেহ কোনোটা নেই!
আছে শুধু মূঢ়ত্ব ও দূরত্বের শিক্ষা,
ভিক্ষাপাত্র নিয়ে কীসে হই শিক্ষাপ্রাপ্ত?
মস্তিষ্কের কর্মকান্ড লুপ্ত হয়ে যায়!
তোমার সন্নিকটে
কত সাধ অপূর্ণ রেখে
তোমার কাছে গিয়ে
তোমার সাধ পূর্ণ করতে হলো!
ঢাকায় এসেও নিজেকে ঢেকে রাখিনি
কত কিছুর নিকটতা পরিহার করে
তোমার নিকটে গেলাম!
আচাভুয়া হয়ে যায়নি!
গাওয়াল হয়ে
পথেঘাটে যত্রতত্র পা ফেলিনি!
আঙুলের নখ বেড়ে যাওয়ার পর
তা শুধু কাটিনি!
কত সাধ-আহ্লাদ ছাঁটাই করেছি!
যে শকটে তোমার সন্নিকটে এসেছিলাম
তা বহুদিন অপেক্ষায় ছিল,
আমি হয়তো ফিরে যাবো!
কিন্তু ফিরে যাইনি,
আমি কাউকে ফেলে রেখে ফিরে যাই না!
নিজেকে মর্টগেজ দিয়ে না রাখার পরও
মর্টারের গোলার মধ্যে পড়ে
তোমাকে উদ্ধার করেছি!
মহাকাব্যের যে পরিচ্ছদটি
ত্যাগের মহিমা নিয়ে ছোট ছিল,
তা দেখো আজ কত বড় হয়েছে!
