বাংলাদেশে পুরুষদের ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যানসার সংক্রমণ বাড়ছেই। তবে অন্যান্য ক্যানসারের নির্দিষ্ট কারণ জানা না থাকলেও, ফুসফুস ক্যানসারের জন্য ধূমপান প্রধান ঝুঁকি হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। ধূমপানের পাশাপাশি অতিমাত্রায় বায়ুদূষণ ফুসফুস ক্যানসারের আরেকটি বড় কারণ। যদিও এই ক্যানসারের উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট নয় এবং অন্যান্য শ্বাসযন্ত্রজনিত রোগ যেমন যক্ষ্মা, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদির উপসর্গের সঙ্গে অনেকটাই মিল রয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী কাশি, বুকে ব্যথা, কাশির সঙ্গে রক্ত ওঠা, শ্বাসকষ্ট, ওজন কমে যাওয়া, শরীরে রক্তশূন্যতা, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি এগুলো মোটা দাগে উপসর্গ। দুই সপ্তাহের বেশি সময়
ধরে কাশি থাকলে, একটি বুকের এক্স-রে করানো জরুরি, যাতে সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা যায়।
ফুসফুসের এক্স-রেতে যদি ক্যানসারের মতো সন্দেহজনক কিছু দেখা যায়, তাহলে পরবর্তী ধাপে বুকের সিটি স্ক্যান করানো হয়। সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে যদি সন্দেহ আরও জোরালো হয়, তবে অন্যান্য ক্যানসারের মতোই ফুসফুস ক্যানসার নির্ণয়ের জন্য বায়োপসি হলো সুনিশ্চিত পরীক্ষা। বায়োপসির মাধ্যমে আমরা ফুসফুস ক্যানসারের দুটি নির্দিষ্ট ধরন চিহ্নিত করতে পারি। একটি স্মল সেল লাং ক্যানসার, অন্যটি নন স্মল সেল লাং ক্যানসার।
চিকিৎসা
সব ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসা তার স্টেজ বা পর্যায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই রোগ নির্ণয়ের পর চিকিৎসকের প্রথম দায়িত্ব হলো ক্যানসার শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া। এর জন্য বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। যদি ফুসফুস ক্যানসার হয় এবং প্রথম অথবা দ্বিতীয় ধাপে থাকে সে ক্ষেত্রে বক্ষব্যাধি সার্জনই প্রাথমিক চিকিৎসক। তৃতীয় বা চতুর্থ ধাপে থাকলে অনকোলজিস্টই প্রাথমিক চিকিৎসক হিসেবে কাজ করবেন এবং পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
ক্যানসারের চিকিৎসার ক্ষেত্রে শুধু ক্যানসারের ধরন ও স্টেজই নয়, আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীর শারীরিক অবস্থা। শুধু রোগীর বয়স নয়, সেই সঙ্গে রোগীর ক্যানসারের পাশাপাশি ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, হৃদরোগ বা অন্য কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলো নজরে নেওয়া। ক্যানসারের চিকিৎসায় সার্জারি ছাড়াও যে চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো সাধারণত কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ব্যবহার করা হয়। এসব চিকিৎসা পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশে রয়েছে।
কেমোথেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপি হলো ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে (ইনজেকশনের মাধ্যমে বা মুখে সেবনের মাধ্যমে) ক্যানসার নিয়ন্ত্রণের একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এর মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসারকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় বা ছোট আকারে পরিণত করা সম্ভব। ফলস্বরূপ, রোগীর বিভিন্ন উপসর্গ, অর্থাৎ তিনি যে সমস্যাগুলো নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন, সেগুলো অনেকটা উপশম হয়।
অনেক ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি বা টার্গেটেড থেরাপির পর যদি ক্যানসারকে রিসেক্টেবল (অপারেশনের উপযোগী) মনে করা হয়, তাহলে বক্ষব্যাধি সার্জন অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা দিতে পারেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত করা। এ ক্ষেত্রে এমবিবিএস বা প্রাথমিক পর্যায়ের চিকিৎসকদের যেকোনো ধরনের ফুসফুসীয় উপসর্গকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা এবং রোগ নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া যারা ধূমপান করেন, তাদের ধূমপান পরিহার করতে হবে। ক্যানসার থেকে বিশেষ করে ফুসফুস ক্যানসার থেকে, অনেকটাই দূরে থাকতে পারবেন।
