রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক, কর্মকর্তা,কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবার নিয়োগে অনিয়ম পেলে সিন্ডিকেট ছাড়াই জড়িতদের বরখাস্তের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা অনিয়মে বেরোবির নাম জড়িয়েছে। সম্প্রতি অনিয়মের বেশ কয়েকটি ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এবং যা নিয়ে ঝড় চলছে ফেসবুকে। কিছুদিন আগে ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই নামে আরেকজন ব্যক্তি নিয়োগ চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার বরাবর আবেদন করেন।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কারণে সেই সময়ের প্রশাসন তাকে বঞ্চিত করে। নিয়োগপত্র পেয়েও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেননি। সেই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার ও সংস্থাপন শাখার অসহযোগিতার জন্য তাকে বঞ্চিত হতে হয়।
তাছাড়া একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইউসুফ শিকদারের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠে। শিক্ষক নিয়োগে যে যোগ্যতা প্রয়োজন তার সেই যোগ্যতা নেই বলে অভিযোগ উঠে। একইভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আইরিন আক্তারও যোগ্যতা সম্পন্ন নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। আইরন আক্তার আবু সাঈদ হত্যা মামলায় জড়িত শিক্ষক মশিউর রহমানের স্ত্রী।
এছাড়া আলোচনায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কলা অনুষদের সাবেক ডিন ড. তুহিন ওয়াদুদের নিয়োগ প্রসঙ্গ। অভিযোগকারীরা এবং সূত্র জানায়, কোনোভাবেই তার নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বৃহৎ অংশের নিয়োগ স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, “প্রতিষ্ঠার পর থেকে যত নিয়োগ হয়েছে তার বেশিরভাগই কোনো না কোনোভাবে অবৈধ ও অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে। এসব অনিয়মকারীদের জাল অনেক বড় এবং চাইলেও নিয়ম বদলানো সম্ভব হয়ে উঠছে না।”
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই অনিয়মের ঘটনা ঘটে আসছে। বঞ্চিত হয়েছে শত-শত মেধাবী প্রার্থী। আমরা আশা রাখি এখন থেকে যেসব নিয়োগ হবে সবাই যোগ্য প্রার্থী হবেন। একটি অযোগ্য প্রার্থী রাখার সুযোগ আমরা দিচ্ছি না। যদি কোনো নিয়োগে অস্বচ্ছতা থাকে এবং অনিয়মের কথা শুনি এ বিষয়ে যারা জড়িত থাকবেন তাদের বরখাস্ত করা হবে। তাছাড়া যাদের নামে অভিযোগ আসছে আমি তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করার ঘোষণা দিয়েছি।”
তিনি বলেন, “আমি কঠোর ভাষায় বলতে চাই, নিয়োগে অস্বচ্ছতা দেখলে ‘উইথ আউট সিন্ডিকেট’ জড়িতদের বরখাস্ত করা হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় হবে ন্যায়ের প্রতীক। শিক্ষক নিয়োগে এক বিভাগের বোর্ডে অন্য বিভাগের শিক্ষক থাকে। এখন থেকে এসব হওয়ার সুযোগ নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. হারুন অর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘‘আগে যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন থেকে অনিয়মের সুযোগ নেই।’’
সাবেক এমপি নিক্সন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী গ্রেপ্তার