আজ অ্যানফিল্ডে মুখোমুখি হবে লিভারপুল ও ম্যানচেস্টার সিটি। একদিকে লিভারপুলের ধারাবাহিক দুর্দান্ত ফর্ম, অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতার ধারাÑএ দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতি
রীতিমতো ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
আর্নে সøটের অধীনে নতুন যুগে পা রাখা লিভারপুল যেন অপ্রতিরোধ্য। তাদের প্রিমিয়ার লিগের শেষ ১২ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে পাঁচ ম্যাচের পাঁচটিতেই জয় তাদের বর্তমান ফর্মের সাক্ষী। গত সপ্তাহে রিয়াল মাদ্রিদকে ২০০৯ সালের পর প্রথমবারের মতো হারিয়ে তারা দেখিয়েছে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব। অ্যানফিল্ডে সিটির সঙ্গে সাম্প্রতিক রেকর্ডও দারুণÑ শেষ ২১ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে তারা।
কোডি গাকপো যেমন বলেছেন, ‘এটা আমাদের নিজেদের প্রমাণের সুযোগ। আমরা দেখাতে চাই যে আমরা কী দিয়ে তৈরি।’ এই ম্যাচটি জিতে লিভারপুল সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ১১-এ নিয়ে যেতে পারবে, যা ১৩ ম্যাচের পর কোনো দলের শীর্ষে থাকার বিরল এক অবস্থা গড়ে দেবে। অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটি অন্ধকারে আলোর খোঁজে রয়েছে। গত ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে হার এবং একটি ড্র তাদের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। এমনকি চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিয়েনুর্দের মতো দলের বিপক্ষে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-৩ ড্র করে সিটি। পেপ গার্দিওলার ৯৪২ ম্যাচের কোচিং ক্যারিয়ারে প্রথমবার এমন কিছু ঘটল।
ইনজুরিও সিটির জন্য বড় ধাক্কা। কেভিন ডি ব্রুইনে, ব্যালন ডি’অর জয়ী রদ্রি, গ্রিলিশসহ একাধিক তারকা খেলোয়াড়কে ছাড়াই তাদের মাঠে নামতে হতে পারে। তবে গার্দিওলার দল কখনোই হাল ছাড়ার জন্য পরিচিত নয়। তিনি নিজে বলেছেন, ‘আমরা পরিসংখ্যানের দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে ভালো খেলেছি। কিন্তু ফলাফল আসেনি। এটি বদলাতে হবে।’
রবিবারের ম্যাচটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপার দৌড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। যদি লিভারপুল জেতে এই ম্যাচ, সিটি শিরোপার দৌড়ে বড় ধাক্কা খাবে। প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে মাত্র তিনবার ১১ বা তার বেশি পয়েন্ট পেছন থেকে কেউ শিরোপা জিতেছে। সিটি কখনোই এমন পরিস্থিতি থেকে ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে, সিটি যদি জেতে বা ড্র করে, তাদের ফিরে আসার ইতিহাসকে পুনরায় প্রমাণ করার সুযোগ থাকবে।
ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে লিভারপুলের আক্রমণাত্মক খেলার ধারাবাহিকতা এবং সিটির প্রতিরক্ষা লাইন কতটা স্থিতিশীল থাকে তার ওপর। তবে লিভারপুলের বর্তমান ফর্ম এবং অ্যানফিল্ডের গৌরবজনক ইতিহাস তাদের ফেবারিটের আসনে বসিয়েছে।
ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় থাকবে আরেকটি ক্লাসিক দেখার।
