সাংবাদিক মুন্নী সাহাকে আটকের পর পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে একদল লোকের তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি দল এসে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে হেফাজতে নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। সবশেষে অসুস্থতাসহ নানা দিক বিবেচনায় জামিন নেওয়ার শর্তে রাতেই পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় মুন্নী সাহাকে। গতকাল রাতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) রেজাউল করিম মল্লিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাংবাদিক মুন্নী সাহা এটিএন নিউজের শুরু থেকে টিভি চ্যানেলেটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের ৩১ মে এটিএন নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে ‘এক টাকার খবর’ নামে নতুন একটি নিউজ প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রাত ৯টার পর কারওয়ান বাজারে ‘এক টাকার খবর’-এর অফিস থেকে বের হয়ে সবজি কিনতে যান মুন্নী সাহা। জনতা টাওয়ারের সামনে সবজি কেনার সময় জনতা তাকে ঘিরে ধরে। তারা বেশ কিছুক্ষণ তাকে ঘিরে ধরে রাখে। পরে তেজগাঁও থানা পুলিশের একটি দল সেখান থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় মুন্নী সাহাকে। পরে তেজগাঁও থানা থেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয় তাকে। তার বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার মধ্যে যেকোনো একটিতে গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলে প্রথমে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে বলেও জানানো হয়। কিন্তু ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর প্যানিক অ্যাটাকসহ অসুস্থতা দেখা দেয়। তখন ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেওয়ার শর্তসহ নানা দিক বিবেচনায় রাতেই তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
তেজগাঁও থানার ওসি মোবারক হোসেন বলেন, ‘কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারের সামনে সবজি কিনছিলেন মুন্নী সাহা। এ সময় চিনতে পেরে একদল লোক বিক্ষুব্ধ হয়ে তার ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ডিবি পুলিশ তাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।’
রাত সাড়ে ১২টার দিকে ডিবিপ্রধান রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, ‘পুলিশ মুন্নি সাহাকে আটক করেনি। স্থানীয় জনতা তাকে আটক করলে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে। একপর্যায়ে তাকে ডিবিতে আনার পরে প্যানিক অ্যাটাকসহ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারায় জামিন নেওয়ার শর্তে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাঈম হাওলাদার (১৭) নিহতের ঘটনায় গত ২২ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় তার বাবা মো. কামরুল ইসলাম একটি মামলা করেন। যাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতারা এবং পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাদের আসামি করা হয়। পাশাপাশি মুন্নী সাহাসহ সাতজন সাংবাদিককেও ওই মামলায় আসামি করা হয়।
