আ.লীগের পদ পেয়েই সরকারি জমি দখল করে কোটিপতি মতিন!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩১ পিএম

বাবা আব্দুল হালিম চৌকিদার, তৎকালীন সময়ে গ্রাম্য পুলিশের চাকরি করে সংসার চালাতেন। বাবার ৪ মেয়ে, ৪ ছেলের মধ্যে আব্দুল মতিন সবার ছোট। মতিন ছিলেন কর্মহীন বেকার। কোনোমতে টেনেটুনে জীবন চলছিল তার। মতিনের সংসারে ২ মেয়ে, ২ ছেলে রয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করায় ভোটে কারচুপি করে হন 'মেম্বার'। এরপর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হন। মতিনকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাতারাতি বনে গেলেন জমিদস্যু। করতেন দখলবাজি, দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম। সবই করেন ক্ষমতার দাপটে। 

কয়েক বছরে সরকারের কোটি টাকা সম্পত্তি দখলে বনে যান 'জমিখেকো মতিন মেম্বার'। গড়ে তোলেন সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৬ শতাংশ জমিতে দালান, বিল্ডিং, টিনশেড ঘর, যার বাজার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দখল করেন, পাউবোর নিজস্ব তিনটি পরিত্যক্ত ঘর। গড়ে তোলেন মতিন মার্কেট। 

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের তোরাবগঞ্জ বাজারের দখল বাণিজ্যের  হোতা এই আব্দুল মতিন। যার হাত থেকে কোনও সরকারি জমি রেহায় পায়নি। যেখানে দখল, সেখানে মতিন মেম্বারের রাজত্ব। পাউবো জমি উদ্ধারে নোটিশ দিলে মতিন মেম্বার অজুহাত খুঁজে আদালতে মামলা দায়ের করেন। (সহকারী জজ আদালত রামগতি-লক্ষ্মীপুর) দখলের জমিতে স্থিতাবস্থা (স্টে অর্ডার) বজায় রাখতে আদেশ দেন।

স্থানীয়দের মতে, মতিন মেম্বারের কাছ থেকে সরকারি জমি উদ্ধার করা যাবে না। সে সব ম্যানেজ করে চলে। তার রাজত্ব আজীবন চলবে। সরকারি জমি দখল মানে মতিন মেম্বার। যেখানে দখল, সেখানে মতিন মেম্বার। মাত্র অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। তার নিজস্ব 'মতিন বাহিনী' রয়েছে। তার দলীয় পদ ছোট হলেও দাপট ছিল ব্যাপক। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের ম্যানেজ করে সব অপকর্ম করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজার ব্যবসায়ী জানান, সরকারি জমি দখলে সে খুবই পটু। সে বুঝে কিভাবে জমি দখলে রাখতে হয়। তাকে পাউবো কয়েকবার নোটিশ দেয়। তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার তোরাবগঞ্জ বাজারে পাউবোর পরিত্যক্ত ৩টি ঘর, বাজারে পুকুরের পূর্বে ১১টি ঘর, পুকুরের পশ্চিমে ৩টি ঘর, আধা পাকা ১টি, উত্তরে মসজিদের পাশে ৩টি ঘর, দক্ষিণে স্কুলের পিছনে কয়েক রুম বিস্তৃত বেকারির ফ্যাক্টরি রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় কমলনগরে কোটি টাকার জমি তার দখলে এমন তথ্য পাওয়া যায়।  

বর্তমানে মেম্বার ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দায়িত্বে থাকা আব্দুল মতিন মেম্বার জানান, পাউবোর কোনও জমি তার দখলে নেই। তাদের পূর্ব পুরুষের নথিভুক্ত জমিতে তিনি মার্কেট নির্মাণ করেছেন। এছাড়াও তার দখলে থাকা দোকানঘরগুলোর উচ্ছেদ অভিযান বাতিল করতে আদালতে স্টে অর্ডারের মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

পাউবো প্রকৌশলী মো. নাহিদ উজ জামান দেশ রূপান্তরকে জানান, সরকারি কোনও জমির বিরুদ্ধে মামলা হয় না। পাউবোর জমিতে স্থায়ী দালান করা যাবে না। মতিন মেম্বারের দখলে থাকা জমি উদ্ধারের বিষয়ে লেখা হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা হবে। কেউ মামলা করলে পাউবোর আইনজীবী রয়েছে, তারা মোকাবেলা করবে। 

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা ঝন্টু বিকাশ চাকমা দেশ রূপান্তরকে জানান, পাউবোর জমি দখল উচ্ছেদ বিষয়ে কাগজ পেয়েছি। স্থানীয় তহশিলদার দখলের বিষয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে আদালতে মামলা থাকলে অভিযানে একটু সমস্যা হয়। সরকারি জমিতে কারো মামলা দায়ের হয় না। ভূমি আইন মতে খুব দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত