জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে হত্যা ঘটনায় করা মামলায় কারাগারে ছিলেন ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম। এবার তাদের গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দুজনকে হাজির করা হয়। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাইব্যুনাল তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন আমির হোসেন আমু। গত ১৮ নভেম্বর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামরুল ইসলামকে। গত সোমবার দুজনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে প্রসিকিউশন পক্ষে করা আবেদন মঞ্জুর করে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সকাল ১০টা ২৫মিনিটে আমির হোসেন আমু ও কামরুল ইসলামকে পুলিশের একটি প্রিজনভ্যানে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এরপর তাদের রাখা হয় ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায়। সোয়া এক ঘণ্টা হাজতখানায় রাখার পর তাদের ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়। দুপুর পৌঁনে ১২টার দিকে দুজনের বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আবারও নেওয়া হয় হাজতখানায়। শুনানি শেষে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ ডিসেম্বর ধার্য করে ওই দিন দুজনকে আবারও হাজির করতে নির্দেশ দেন।
শুনানিতে গাজী এম এইচ তামিম তদন্ত প্রতিবেদন থেকে পড়ে আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, দুজনকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাজির করা হয়েছে। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছিল তাই তাদের শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানোর প্রয়োজন নেই। আমির হোসেন আমুর বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি (আমু) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের স্বাধীনতাবিরোধী উল্লেখ করে তাদের তাদের দমনে বল প্রয়োগের উস্কানি দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৯ জুলাই ১৪ দলীয় জোটের একটি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন আমির হোসেন আমু। সেখানে আন্দোলন ঠেকাতে কারফিউ জারি ও দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেওয়া হয়।’
আমির হোসেন আমুকে কেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত করা উচিৎ সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনের ব্যখ্যা দিয়ে যুক্তি তুলে ধরে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘উনি (আমু) যদি সেই বৈঠকে কোনো শব্দ না করতেন, শুধু চেয়ারে বসে থাকতেন তবুও তাকে এ মামলায় অভিযুক্ত করা হতো।’
অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন থেকে পড়ে শোনান প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, ঢাকা- ২ নির্বাচনী এলাকার সংসদ ছিলেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমাতে তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুলিশ,আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের ক্যাডাররা গুলি করে নীরিহ মানুষ হত্যা করেছে। অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। এমনকি তিনি সরকারের দায়িত্বে ছিলেন। আন্দোলন দমাতে সারাদেশে সহস্রাধিকের বেশি মানুষ হত্যার পরেও তা নিয়ন্ত্রণে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এ গণহত্যার দায় তিনি এড়াতে পারেন না। বিচারিক কার্যক্রম শেষে তাদের হাজতখানায় নেওয়া হয়। এরপর দুপুর ১টার দিকে তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ দিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ি থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে আগামী ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে ট্রাইবুনাল। আবুল হাসান গত ১৯ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ি কাজলা এলাকায় ইমাম হোসেন তাঈমকে (১৭ বছর) হত্যা মামলার আসামি। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, যাত্রাবাড়ি থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন তার (আবুল হাসান) উপস্থিতিতে তাঈমকে গুলি করা হয়। এরপর বুট দিয়ে তাঈমের চেহারা বিকৃত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৬২৯
ওএসডিতে থাকা ইসির ৪ কর্মকর্তাকে পদায়ন
যুক্তরাষ্ট্র মৌলিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে গুরুত্ব দেয়: বাংলাদেশ প্রশ্নে বেদান্ত প্যাটেল