গোলাপি টেস্টে লেখা হবে কার প্রত্যাবর্তন

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:৫০ এএম

 

 

 

 

একই মাঠ, একই আলো, একই উত্তেজনা কিন্তু ইতিহাসের ছায়া এবারও দীর্ঘ। অ্যাডিলেডের এই সবুজ কার্পেটে ভারত একসময় রচনা করেছিল দুঃস্বপ্নের অধ্যায় মাত্র ৩৬ রানে অলআউট। সেই ক্ষত বুকে নিয়েই এবার রোহিত শর্মার দল মুখোমুখি এক নতুন চ্যালেঞ্জের। অধিনায়ক নিজেই নিজের জায়গা ছেড়ে দিয়েছেন, তরুণদের হাতে তুলে দিয়েছেন ভবিষ্যতের কলম। অন্যদিকে, মার্নাস লাবুশেনের ব্যাটে জ¦লছে প্রত্যাবর্তনের আগুন। অতীতের অন্ধকারকে পেছনে ফেলে, সাহস আর কৌশলের আলোয় কি এবার ভারতের জয়গান গাওয়া হবে? নাকি অস্ট্রেলিয়া আবারও তুলে নেবে তাদের প্রাচীন আধিপত্যের পতাকা? অ্যাডিলেডের রাত্রি অপেক্ষায় ইতিহাসের নতুন গান শোনার।

২০১৯ সাল থেকে টেস্টে নিয়মিত ওপেনার হিসেবে খেলা রোহিত শর্মা ঘোষণা করেছেন অ্যাডিলেড টেস্টে তিনি মিডল অর্ডারে ব্যাট করবেন। লোকেশ রাহুল ও যশস্বী জয়সওয়ালের সাম্প্রতিক অসাধারণ পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। পার্থ টেস্টে তারা দ্বিতীয় ইনিংসে ২০১ রানের জুটি গড়ে ভারতের জয় নিশ্চিত করেছিলেন। নিজের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রোহিত বলেন, ‘যদি দল ভালো পারফর্ম করে, তাহলে নিজের জায়গা পরিবর্তন করাও সহজ হয়ে যায়। পার্থে দুজন ওপেনার (রাহুল-জয়সওয়াল) যেমন খেলেছে, তা অসাধারণ ছিল। তাদের জায়গায় বদল আনার কোনো প্রয়োজন নেই।’

যদিও রোহিতের সাম্প্রতিক ফর্ম তার পক্ষে কথা বলে না। সবশেষ ১০ ইনিংসে তিনি করেছেন মাত্র ১৩৩ রান। যার মধ্যে একটি মাত্র ফিফটি। তার ব্যাট থেকে সবশেষ সেঞ্চুরি এসেছিল গত মার্চে ধর্মশালায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। তাই জায়গা বদলে যদি ভাগ্য বদলানো যায় সেটাও দেখার চেষ্টা করছেন ৩৭ বছর বয়সী ভারতীয় এই অধিনায়ক। তবে ভারতীয় দলে দলগত চিন্তাভাবনার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে রোহিতের এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে। এমনকি তিনি রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজার মতো অভিজ্ঞ বোলারদের জায়গায় তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘যেকোনো দলের সাফল্যের জন্য তরুণ ও অভিজ্ঞদের সঠিক মিশ্রণ প্রয়োজন।’

যশস্বী জয়সওয়াল, শুবমান গিল এবং রিশাভ পান্তের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা দলে নতুন শক্তি জোগাচ্ছেন। রোহিত শর্মা তাদের ‘নির্ভীক’ মানসিকতা নিয়ে প্রশংসা করেছেন। তার মতে, ‘এই প্রজন্ম জেতার জন্য খেলতে চায়। তারা নিজস্ব রেকর্ড নিয়ে ভাবনা করে না, বরং দলের জয়ের জন্য সবকিছু উজাড় করে দেয়।’ যশস্বীর শতক এবং রাহুলের ধারাবাহিকতা ভারতকে পার্থে জয়ের পথে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দরও দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রোহিত তার বিষয়ে বলেন, ‘বল এবং ব্যাট উভয়দিকেই দক্ষ। তাকে সুস্থ রাখা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এদিকে অস্ট্রেলিয়ান শিবিরে মার্নাস লাবুশেনের ফর্ম একটি বড় দুশ্চিন্তার কারণ। ২০১৯ থেকে প্রতি বছর যার টেস্ট গড় ছিল ৬৫, ৬৭, ৬৫, ৫৬, সেই লাবুশেনের ব্যাটে ২০২৩ থেকেই ভাটা পড়া শুরু করে। বিদায় বছরে ৬ টেস্টে ২৫ গড়ে তার রান মাত্র ২৪৫। সবশেষ ১০ টেস্টে তার ব্যাট থেকে এসেছে মাত্র ১২৩ রান। তারপরও তাকে এই টেস্ট খেলতে দেওয়া হচ্ছে। আশা অ্যাডিলেডে ৭১.৭৫ গড়ে রান তোলা ব্যাটসম্যান ফিরে পাবেন নিজেকে। এ বিষয়ে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, ‘নেটে লাবুশেন অনেক পরিশ্রম করছে এবং আক্রমণাত্মক হওয়ার চেষ্টা করছে। তার রেকর্ড বিবেচনায় আমরা আশা করছি, সে তার সেরা ফর্ম ফিরে পাবে।’

লাবুশেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া স্কট বোল্যান্ডকে দলে ফিরিয়েছে জশ হ্যাজলউডের চোটের কারণে। কামিন্স বোল্যান্ডের সামর্থ্যে আত্মবিশ্বাসী এবং আশা করছেন, বোল্যান্ড দীর্ঘ স্পেলে বল করে দলের ভারসাম্য বজায় রাখবেন। কামিন্স এও জানিয়েছেন, অলরাউন্ডার মিচেল মার্শ চোটগ্রস্ত হওয়ায় তার বোলিং কম ব্যবহার করা হতে পারে। তবে কামিন্স ও বোল্যান্ডের দীর্ঘ স্পেল করার সামর্থ্য দলকে সঠিক ভারসাম্য দিতে পারবে বলে মনে করছেন তিনি।

অ্যাডিলেডের আকাশে যখন গোলাপি বলের জাদু মিশে যাবে সন্ধ্যার নরম আলোয়, তখন শুরু হবে এক অনিশ্চিত যাত্রা। রোহিতের ত্যাগ আর তরুণদের সাহসের কাব্য কি পারবে অতীতের দুঃস্বপ্ন মুছে নতুন ইতিহাস রচনা করতে? নাকি মর্নাস লাবুশেনের ব্যাটে ঝরে পড়বে প্রত্যাবর্তনের সুর, আর কামিন্সের নেতৃত্বে অস্ট্রেলিয়া আবারও গেয়ে উঠবে জয়ের গান?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত