দিয়াবাতের গোলে ১০ জনের মোহামেডানের কিংস জয়

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৩১ পিএম

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের অনুপযোগী মাঠে খেলা নিয়ে আপত্তি ছিল বসুন্ধরা কিংসের। এবড়ো থেবড়ো মাঠের পাশাপাশি মাঝখানে ক্রিকেটের উইকেট সম্প্রতি সরানোর ফলে মাঠের অবস্থা খেলার উপযোগী ছিল না। অথচ এখানেই দলটিকে তিনদিনের ব্যবধানে খেলতে হয়েছে দুই ম্যাচ। প্রথমটি মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের। ব্রাদার্সকে সেই ম্যাচে কোনমতে ১-০ গোলে হারালেও লিগের ম্যাচে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে তাদের। স্বাগতিক মোহামেডান দশজনের দল নিয়েই টানা পাঁচবারের শিরোপাধারীদের হারিয়ে দিয়েছে ১-০ ব্যবধানে।

লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে এই হারটা কিংসের জন্য বড় ধাক্কা। অন্যদিকে এমন জয়ে মোহামেডানের সেরার স্বপ্নটা আরও বড় হলো। ময়মনসিংহে দিনের অপর ম্যাচে নাবিব নেওয়াজ জীবনের জোড়া গোলে রহমতগঞ্জ ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মোহামেডান ও রহমতগঞ্জ। মোহামেডান সবার ওপরে থাকছে বেশি গোল করার কারণে। দ্বিতীয় রাউন্ডেই হারের তেতো স্বাদ পাওয়া বসুন্ধরা কিংস নেমে গেছে তিনে। গত মৌসুমেও লিগের প্রথম পর্বে মোহামেডানের কাছে হেরেছিল কাগুজে সেরারা। এবার একটু আগেভাগেই মাটিতে পা রাখতে হলো কিংসকে। এখান থেকে ঘুঁড়ে দাঁড়াতে তাদের পরের পথটা হতে হবে মসৃণ।

ম্যাচের ২৪ মিনিটে ১০জনের দলে পরিণত হয় মোহামেডান। আক্রমণে ওঠা রাকিব হোসেনকে বক্স থেকে বের হয়ে এসে বাজে ট্যাকল করে সরাসরি লালকার্ড দেখেন মোহামেডান কিপার সুজন হোসেন। ফলে মিডফিল্ডার আরিফকে তুলে নিয়ে আলফাজ আহমেদ নামান দ্বিতীয় কিপার সাকিব আল হাসানকে। 

একজন কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মোহামেডানকে নিতে হয় রক্ষণাত্মক কৌশল। তারা ঘর সামলানোয় মনযোগী হয়। তবে কিংস আক্রমনাত্মক খেললেও বাজে মাঠের কারণে সহজাত ফুটবলটা খুলতে পারেনি। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূণ্য ড্রয়ে। বিরতির পর ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বসে বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মোহামেডান। নিজেদের অর্ধ থেকে রহিমউদ্দিনের থ্রু পাস কিংস নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ইজেকে পরাস্ত করে আয়ত্বে নিয়ে ওয়ান-ওয়ান পজিশনে মেহেদী হাসান শ্রাবণকে সুযোগ না দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বল জালে জড়ান সুলেমান দিয়াবাতে।

৭৫ মিনিটে দলের ব্যবধান বাড়ানোর সেরা সুযোগ নষ্ট করেন সুলেমান দিয়াবাতে। কিংসের রাইটব্যাক রিমন হোসেন বক্সের ভেতর বাজে ট্যাকল করেন রহিম উদ্দিনকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন। তবে মেহেদী হাসান শ্রাবণকে স্পটকিকে পরাস্ত করতে পারেননি মালির ফরোয়ার্ড। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দিয়াবাতের শট রুখে দেন।

৮৩ মিনিটে গোলকিপার সাকিব আল হাসানের কৃতিত্বে গোল খায়নি মোহামেডান। বাঁ দিক থেকে ফাহিমের ক্রস প্রথম ফিস্ট করে ক্লিয়ার করেন তিনি। এরপর বল চলে যায় মজিবর রহমান জনির কাছে। এই মিডফিল্ডার আলতো বল বাড়ান গোলমুখে। তাতে জারেদ খাসার ভলি শেষ মুহূর্তে পা দিয়ে রুখে দেন সাকিব। ফিরতি বলে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি মিগেল ফিগেইরা।

৯০ মিনিটে রহিমউদ্দিন উন্মুক্ত পোস্টে বল রাখতে পারেননি। মোজাফফরভের থ্রু পাস অফসাইড ফাঁদ ভেঙে আয়ত্বে নিয়ে আগুয়ান শ্রাবণকে পরাস্ত করে পোস্ট উন্মুক্ত পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে তার আড়াআড়ি শট পোস্টে থাকেনি। পরের মুহূর্তে ফাহিমের কাটব্যাকে মিগেলের শট রুখে দেন সাকিব আল হাসান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত