দিয়াবাতের গোলে কিংসকে হারাল মোহামেডান

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৩:৫৭ এএম

কুমিল্লার শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামের অনুপযোগী মাঠে খেলা নিয়ে আপত্তি ছিল বসুন্ধরা কিংসের। একে তো মাঠ এবড়ো থেবড়ো। তার ওপর সম্প্রতি এই মাঠের মাঝখান থেকে তোলা হয় ক্রিকেটের উইকেট। অথচ এ মাঠেই বসুন্ধরা কিংসকে তিনদিনের ব্যবধানে খেলতে হয়েছে দুই ম্যাচ। প্রথমটি মঙ্গলবার ফেডারেশন কাপের। ব্রাদার্সকে সেই ম্যাচে কোনো মতে ১-০ গোলে হারালেও লিগের ম্যাচে হারের স্বাদ পেতে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। স্বাগতিক মোহামেডান দশজনের দল নিয়েই টানা পাঁচবারের শিরোপাধারীদের হারিয়ে দিয়েছে ১-০ ব্যবধানে। লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডে এই হারটা কিংসের জন্য বড় ধাক্কা। ময়মনসিংহে দিনের অপর ম্যাচে নাবিব নেওয়াজ জীবনের জোড়া গোলে রহমতগঞ্জ ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে চট্টগ্রাম আবাহনীকে।

টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্টে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে মোহামেডান ও রহমতগঞ্জ। মোহামেডান সবার ওপরে আছে বেশি গোল করার কারণে। দ্বিতীয় রাউন্ডেই হারের তেতো স্বাদ পাওয়া বসুন্ধরা কিংস নেমে গেছে তিনে। গত মৌসুমেও লিগের প্রথম পর্বে মোহামেডানের কাছে হেরেছিল কাগুজে সেরারা। সেটাই ছিল সেই লিগে তাদের একমাত্র হার। এবার একটু আগেভাগে মাটিতে পা রাখতে হলো কিংসকে। এখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে হেক্সা মিশনের সফল সমাপ্তি দেওয়া একটু কঠিন হয়েছে কিংসের জন্য।

মোহামেডানের জন্য এই জয় ২২ নভেম্বর চ্যালেঞ্জ কাপে হারের বদলা। মৌসুমের শুরুর ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও আলফাজ আহমেদের শিষ্যদের হারতে হয়েছিল ৩-১ ব্যবধানে। কিংস অ্যারেনার মসৃণ মাঠে আক্রমণের ঢেউ তুলে মোহামেডানকে হারের হতাশা উপহার দিয়েছিল কিংস। তবে কুমিল্লায় কিংসের ফরোয়ার্ডরা সেভাবে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারেননি। খারাপ মাঠে মিগেল, খাসা, রাকিব, ফাহিমরা পারেননি ফুটবলের ফুল ফোটাতে।

তারপরও খেলায় প্রাধান্য ছিল কিংসের। আর ম্যাচের ২৪ মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয়ে কিংসের কাজটা আরও সহজ করে দিয়েছিল মোহামেডান। আক্রমণে ওঠা রাকিব হোসেনকে নিশ্চিত গোল বঞ্চিত করতে বক্স ছেড়ে বের হয়ে এসে বাজে ট্যাকল করে সরাসরি লালকার্ড দেখেন মোহামেডান কিপার সুজন হোসেন। ফলে মিডফিল্ডার আরিফকে তুলে নিয়ে আলফাজ আহমেদকে নামাতে দ্বিতীয় গোলকিপার সাকিব আল হাসানকে। যদিও সুজনের অভাব বুঝতে দেননি সাকিব। কিংসকে বারবার হতাশ করে মোহামেডানের জয়ে রেখেছেন বড় অবদান।

একজন কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মোহামেডানকে নিতে হয় রক্ষণাত্মক কৌশল। তারা ঘর সামলে আক্রমণে উঠতে মনোযোগী হয়। তবে কিংস আক্রমণাত্মক খেললেও বাজে মাঠের কারণে ভীতি ছড়াতে পারেনি মোহামেডান শিবিরে। ফলে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে। বিরতির পর ধারার বিপরীতে গোল হজম করে বসুন্ধরা কিংস। ম্যাচের ৫৮ মিনিটে প্রতি-আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় মোহামেডান। নিজেদের অর্ধ থেকে রহিমউদ্দিনের থ্রু পাস কিংসের নাইজেরিয়ান ডিফেন্ডার ইজেকে পরাস্ত করে আয়ত্তে নিয়ে ওয়ান-ওয়ান পজিশনে মেহেদী হাসান শ্রাবণকে সুযোগ না দিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বল জালে জড়ান সুলেমান দিয়াবাতে।

 ৭৫ মিনিটে দলের ব্যবধান বাড়ানোর সেরা সুযোগ নষ্ট করেন সুলেমান দিয়াবাতে। কিংসের রাইটব্যাক রিমন হোসেন বক্সের ভেতর বাজে ট্যাকল করেন রহিম উদ্দিনকে। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন। তবে মেহেদী হাসান শ্রাবণকে স্পটকিকে পরাস্ত করতে পারেননি মালির ফরোয়ার্ড। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দিয়াবাতের শট রুখে দেন।

 ৮৩ মিনিটে গোলকিপার সাকিব আল হাসানের কৃতিত্বে গোল খায়নি মোহামেডান। বাঁদিক থেকে ফাহিমের ক্রস প্রথম ফিস্ট করে ক্লিয়ার করেন তিনি। এরপর বল চলে যায় মজিবর রহমান জনির কাছে। এই মিডফিল্ডার আলতো বল বাড়ান গোলমুখে। তাতে জারেদ খাসার ভলি শেষ মুহূর্তে পা দিয়ে রুখে দেন সাকিব। ফিরতি বলে ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি মিগেল ফিগেইরা।

৯০ মিনিটে রহিম উদ্দিন উন্মুক্ত পোস্টে বল রাখতে পারেননি। মোজাফফরভের থ্রু পাস অফসাইড ফাঁদ ভেঙে আয়ত্তে নিয়ে আগুয়ান শ্রাবণকে পরাস্ত করে পোস্ট উন্মুক্ত পেয়ে গিয়েছিলেন। তবে তার আড়াআড়ি শট পোস্টে থাকেনি। পরের মুহূর্তে ফাহিমের কাটব্যাকে মিগেলের শট রুখে দেন সাকিব আল হাসান।

ময়মনসিংহের রফিক উদ্দিন ভুঁইয়া স্টেডিয়ামে রহমতগঞ্জের কাছে পাত্তা পায়নি কিংসের কাছে প্রথম ম্যাচে ৭-০ গোলে হারা চট্টগ্রাম আবাহনী। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর ৫৫ ও ৬৯ মিনিটে গোল করে জাতীয় দলে ফেরার দাবিটা জানিয়ে রাখলেন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার নাবিব নেওয়াজ জীবন। এর আগের ম্যাচে রহমতগঞ্জ ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ফর্টিজ এফসিকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত