আ.লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষ দুই ইউপি সদস্য নিহত

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:০৬ এএম

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে নরসিংদীর রায়পুরায় আওয়ামী লীগ সমর্থক দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ও সাবেক দুই সদস্যকে (মেম্বার)। এছাড়া এই সংঘাতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। গতকাল শনিবার ভোর থেকে সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা এলাকায় আব্দুল বাসেত মেম্বার এবং আবিদ হাসান রুবেল পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের সামসু মিয়ার ছেলে ও একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার মানিক মিয়া (৫০) এবং একই এলাকার আবু খালেক মিয়ার স্ত্রী ও চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা সদস্য কল্পনা বেগম (৪২)। আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন জুয়েল (৩০), রাব্বি (২২), সাব্বির (৩৮), আমির হোসেন (২১), টুটুল (৩৫), বাদল ভেন্ডার (৫৫), মারুফ মিয়া (১৫) ও সুফিয়া বেগম (৩৮)।

জানা গেছে, আব্দুল বাসেত মেম্বার এবং আবিদ হাসান রুবেল এই দুজনই সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী এবং রায়পুরা আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর দীর্ঘদিনের সমর্থক ছিলেন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ায় রাজি উদ্দিন আহমেদ রাজুর সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেলের। এলাকায় আধিপত্য নিয়ে আবিদ হাসান রুবেলের সঙ্গে বাসেত মেম্বারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে যা আরও বাড়ে। এর আগে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সব সংঘর্ষে হতাহত এবং পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। সর্বশেষ উপজেলা নির্বাচনে প্রচারণা চালানোর সময় প্রতিদ্বন্দ্বী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী সুমন মিয়াকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ রয়েছে যুবলীগ নেতা আবিদ হাসান রুবেল ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান রুবেল। সম্প্রতি সুমন হত্যা মামলায় জামিন নিয়ে এলাকায় এসে ফের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালান। এতে প্রতিপক্ষ বাসেত মেম্বার গ্রুপের লোকজন বাধা দেয়। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। যারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ভোরে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষের সময় রুবেলের চাচা মেম্বার মানিক মিয়া চাঁন্দেরকান্দি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বশির উদ্দিনের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এ সময় তাকে বশির উদ্দিনের উঠানে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। এছাড়াও মানিক মিয়ার পা কেটে তা নিয়ে উল্লাস করে প্রতিপক্ষের লোকজন। পরে সাবেক নারী ইউপি সদস্য কল্পনা বেগমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ সময় রুবেল পক্ষের লোকজন পাল্টা গুলি চালালে গোলাগুলিতে অন্তত ১০ জন আহত হন। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। জোড়া এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের কয়েক গ্রাম জুড়ে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা রয়েছে।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. খান নুরউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর জানান, গুলিবিদ্ধ দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এছাড়াও আহত ছয়জন চিকিৎসা নিয়েছে।

নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল হান্নান জানান, নতুন করে সহিংসতা ঠেকাতে ওই এলাকায় পুলিশ, র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত