লালমনিরহাটে শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, পুলিশ-সাংবাদিকসহ আহত ১২

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৪২ পিএম

লালমনিরহাটে বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় দুই সাংবাদিক, এক পুলিশ সদস্যসহ শ্রমিকদের দুই গ্রুপের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে সদর থানা পুলিশের এসআই রাশেদ হোসেন, ডেইলি বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, আজকের দর্পণ পত্রিকার সাংবাদিক এসআর শরিফুলইসলাম রতনসহ আরও ৮/৯ জন আহত হয়। আহত শ্রমিকদের নাম জানা যায়নি।

শ্রমিকরা জানান, লালমনিরহাট জেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃত্ব নিয়ে দুটি গ্রুপ আছে। একটি পক্ষ সংগঠনের পুরনো রেজিস্ট্রেশন নম্বর বহাল রাখতে চান এবং বহিরাগত শ্রমিক ও দ্বৈত শ্রমিক দ্বারা প্রচলিত শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি ওমর ফারুক বাবলু। অপর পক্ষে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়া নেতৃত্ব দেন মাহফুজার ও বকুল ড্রাইভারগংরা।

শ্রমিক নেতা বাবলু জানায়, ৫ আগস্ট স্বৈরাচার সরকার পতনের পর থেকেই মাহফুজার, বকুলসহ বেশ কিছু শ্রমিক আওয়ামী দোসরদের সঙ্গে নিয়ে শ্রম আইন লঙ্ঘন করে দ্বৈত শ্রমিক ও বহিরাগতদের নিয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে রবিবার সাধারণ নিবন্ধিত শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী একটি মিছিল ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় মানববন্ধনের জন্য পৌঁছলে বাস টার্মিনালে আগে থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী অবস্থান নিয়ে থাকা মাহফুজার, বজুল ড্রাইভার গংরা আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

তবে ইটপাটকেল ছুঁড়ে শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে অপরপক্ষ। তাদের দাবি- বাবলুর নেতৃত্ব দেওয়া মিছিল থেকেই বাস টার্মিনালে থাকা শ্রমিকদের ওপর ঢিল ছোঁড়া হয়। এতে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। বাসটার্মিনালে থাকা শ্রমিকরা নতুন করে শ্রমিক ইউনিয়নের রেজিস্ট্রেশন নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন বলেও জানান তারা।

আহত সাংবাদিক এসআর শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, শ্রমিকদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার ভিডিও ধারণ করার সময় আমাকে ও ডেইলি বাংলাদেশের প্রতিনিধি জিন্নাতুল ইসলাম জিন্নার ওপর হামলা চালায় একটি পক্ষ।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ছাড়া এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত