মসজিদে অহেতুক কথা পরিহার কাম্য

আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:৪৫ এএম

মসজিদ ইবাদতের জায়গা। মহান আল্লাহর ঘর। মসজিদে অহেতুক ও দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা গুনাহের কাজ। তাই সওয়াব অর্জনের উদ্দেশে মসজিদে গিয়ে আমরা যেন গুনাহ অর্জন না করি, সেই বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) বলেন, যদি তোমরা কোনো মানুষকে মসজিদের ভেতরে হারানো বস্তু খুঁজতে দেখো (অর্থাৎ সে ঘোষণা করছে, আমার অমুখ জিনিসটি কেউ পেয়ে থাকলে দিয়ে দেবেন) তখন তোমরা জবাবে বলবে, আল্লাহ তোমার জিনিসটা আর ফিরিয়ে না দিক। কেননা মসজিদ তো এসবের জন্য তৈরি হয়নি। (সহিহ মুসলিম)

হাদিসে আরও বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খায়, সে যেন মুখ পরিষ্কার করা ছাড়া মসজিদে না যায়।’ কারণ মানুষের মতো ফেরেশতারাও দুর্গন্ধ দ্বারা কষ্ট পায়। যেমন কাঁচা রসুন, পেঁয়াজ, বিড়ি-সিগারেট ইত্যাদি। এসব দুর্গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যদি মেসওয়াক করে তাহলে গন্ধ চলে যায়।

হজরত রাসুল (সা.) বলেন, আমার সামনে আমার উম্মতের ভালো-খারাপ সব আমল পেশ করা হয়েছে। ভালো আমলসমূহের মধ্যে এটাও আছে যে, রাস্তার মধ্যে কোনো কষ্টদায়ক বস্তু থাকলে তা সরিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ কলার খোসা, পাথর, কাঁটা ইত্যাদি সরিয়ে দেওয়া। যাতে পথিকদের কষ্ট না হয়। আর খারাপ আমলসমূহের মধ্যে এটাও আছে যে, মসজিদে থুথু ইত্যাদি ময়লা-আবর্জনা থাকা সত্ত্বেও পরিষ্কার না করা। (সহিহ মুসলিম)

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) পাড়ায় পাড়ায় মসজিদ নির্মাণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং সেগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবং তাতে সুগন্ধি ছড়িয়ে দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন। (সুনানে আবু দাউদ)

এখন তো দেখা যায়, অনেক মসজিদে ঝকঝকে টাইলস, দামি ঝাড়বাতি। কিন্তু আশপাশের পরিবেশ খুবই নোংরা। বিষয়টি খেয়াল করা দরকার। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, মানুষ যে নিয়তে মসজিদে গমন করে, তাই পায়। অর্থাৎ সওয়াব পাওয়ার উদ্দেশে গেলে সওয়াব পাবে। আর যদি জাগতিক কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে যায়, তার গুনাহ হবে। এজন্য ঘর থাকা সত্ত্বেও শুধু বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশে মসজিদে যাওয়া এবং সেখানে গিয়ে অহেতুক গল্পগুজবে মেতে ওঠা জায়েজ নেই। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসে অশ্লীল কবিতা পাঠ করা এবং বেচাকেনা করতে নিষেধ করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ)

অন্য হাদিসে এসেছে, কাউকে মসজিদের ভেতরে বেচাকেনা করতে দেখলে তাকে বলো, ‘আল্লাহ তোমার ব্যবসাকে লাভবান না করুন।’ (তিরমিজি) নবী করিম (সা.) বলেন, মানুষ এমন একটা যুগে উপনীত হবে, যে যুগে মানুষ মসজিদে বসে দুনিয়াবি বিষয়সমসূহ আলোচনা করবে। তাদের সঙ্গে কখনো বসবে না, কারণ তাদের প্রতি আল্লাহ অসন্তুষ্ট থাকবেন। (বায়হাকি) তাই আমাদের করণীয় হলো, মসজিদে গিয়ে দুনিয়াবি কথাবার্তা বলা থেকে বিরত থাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত