স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তাইওয়ান ঘিরে চীন আধিপত্য বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ করেছে তাইপে। দেশটির অভিযোগ, ২০২২ সালে চীন-তাইওয়ান বিরোধপূর্ণ এলাকায় চীনের চালানো সামরিক মহড়ার তুলনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামরিক শক্তির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সুন লি ফাং বলেন, ওকিনাওয়া, তাইওয়ান এবং ফিলিপাইনকে সংযোগকারী তথাকথিত ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন ঘিরে চীনা যুদ্ধজাহাজ, কোস্টগার্ডের জাহাজ ও অন্য জাহাজ মোতায়েনের সংখ্যা ২০২২ সালকে ছাড়িয়ে গেছে।
২০২২ সালের সামরিক মহড়াকে এ যাবৎকালে তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। সে বছর মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের তৎকালীন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের প্রতিক্রিয়ায় মহড়াটি চালিয়েছিল বেইজিং। তাইওয়ানের জ্যেষ্ঠ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের প্রায় ৯০টি জাহাজ এখন পূর্ব চীন সাগর, তাইওয়ান প্রণালি এবং দক্ষিণ চীন সাগরের পানিসীমায় অবস্থান করছে। এর আগে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছিল, দ্বীপ এলাকাটির আশপাশে ৪৭টি চীনা যুদ্ধবিমান ও ১২টি যুদ্ধজাহাজ শনাক্ত করেছে তারা।
তাইওয়ান নিজেদের সার্বভৌম দেশ হিসেবে দাবি করে থাকে। তবে চীনের দাবি, ভূখণ্ডটি তাদেরই অংশ। স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে বলপ্রয়োগেও পিছপা হবে না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাইওয়ানের কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সামরিক চুক্তির কারণে আবারও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং তের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় সফরকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে চীন।
