দেশের ১ হাজার ১৫৬টি নদ-নদীর খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পানি ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশের নদ-নদীর সংখ্যা নির্ধারণ অবহিতকরণ শীর্ষক সেমিনারে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসানের সভাপতিত্বে সেমিনারে অতিথি ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) মহাপরিচালক মুহাম্মদ আমিরুল হক প্রমুখ।
সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব নাজমুল আহসান জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের পর এই খসড়া তালিকা তৈরি করা হয়েছে। এটি জমির সিএস ও আরএসের মাধ্যমে হয়েছে।
এই তালিকায় ৩৬৫টি এমন নদীর নাম যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ২০১১ সালে বাপাউবোর প্রকাশ করা ৪০৫টি নদী এবং ২০২৩ সালে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রস্তুত করা ১ হাজার ৮টি নদীর তালিকায় ছিল না। নদী রক্ষা কমিশনের তালিকায় থাকা ২২৪টি নদীর নাম পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় রাখা হয়নি। এ বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই করা হবে।
আগামী ১ বৈশাখে নদ-নদীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সেমিনারে তিনি বলেন, নদ-নদীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার ক্ষেত্রে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সঙ্গে ভূমি মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করা হবে নদ-নদীর চূড়ান্ত তালিকা করার জন্য।
তিনি আরও বলেন, যে নদীগুলোর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, সেগুলোর যদি রেকর্ড থাকে, তাহলে ডিসিদের বলব, যাচাই করে আমাদের পাঠিয়ে দিতে। নদীর সংখ্যাটা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। ১ বৈশাখের মধ্যে নদীর সংখ্যার চূড়ান্ত তালিকা দিয়েই আমরা থেমে থাকব না। এরপর পর্যায়ক্রমে নদীর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, অবস্থাসহ অন্যান্য তথ্য সেই তালিকায় যুক্ত করা হবে। তালিকায় নদীর অফিশিয়াল নামের পাশাপাশি স্থানীয় নামও থাকবে।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, মৃত নদী বলতে কোনো নদী নেই, প্রবাহহীন বলতে পারেন। প্রবাহহীন নদীকে প্রবহমান করার অনেক প্রক্রিয়া বা রাস্তা আছে। মৃত নদী দেখিয়ে নদীর জায়গা ইজারা বা লিজ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা হাওরের তালিকা চূড়ান্ত করে ফেলেছি, আমরা বিলেরও একটা তালিকা চূড়ান্ত করেছি। পরবর্তী কাজ হচ্ছে খালের তালিকা চূড়ান্ত করা।’ আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের সব জেলার খালের তালিকা রেকর্ড অনুযায়ী যাছাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য ডিসিদের নির্দেশ দেন উপদেষ্টা।
সেমিনারে অতিথির বক্তব্যে নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ নদীবিধৌত দেশ। এ দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নদ-নদীর ওপর নির্ভরশীল। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, উন্নয়নের নামে নদ-নদী, খাল-বিল দখল করা হয়েছে। নদীকে বাঁচাতে হলে দূষণ ও অবৈধ দখলদারি থেকে মুক্ত করতে হবে। নদী বাঁচানোর এখনই উপযুক্ত সময়। অন্য সময় করতে হলে স্বার্থের সংঘাত শুরু হবে।
