স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য বরাদ্দকৃত পোষ্য কোটা বহাল রাখার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মানববন্ধন হয়েছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘সাধারণ শিক্ষার্থীরা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’র ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা, ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’, ‘সাকিব আঞ্জুম মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্রসমাজ জেগেছে’, ‘অ্যাকশন অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘পোষ্য কোটার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘মেধাবীদের কান্না, আর না আর না’, ‘পোষ্য কোটা নিপাত যাক, মেধাবীরা মুক্তি পাক’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, পোষ্য কোটার কবর দে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘একটা জনগোষ্ঠী যারা সকল ধরনের সুবিধা থেকে সামগ্রিকভাবে পিছিয়ে পড়া, তাদের সমাজের সাধারণ সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর কাতারে নিয়ে আসার জন্য কোটার সুবিধা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কোনো শিক্ষক-কর্মকর্তা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা বেতন পায়। এতো টাকা বেতনের একটা গোষ্ঠী কীভাবে সুবিধা বঞ্চিত হয়? তারা কীভাবে পিছিয়ে পড়ার আওতায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার সন্তানেরা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল-কলেজে বিভিন্নরকম সুবিধা পায়। তারা ছোটবেলা থেকে একটা সুবিধার বলয়ের মধ্যে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তার সন্তান, এটা কী কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয় বহন করে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বুদ্ধিবৃত্তিককে সম্মান করে না। যদি করত, তাহলে এসব ফেল করা শিক্ষার্থীদের ভর্তির সুযোগ দিত না। অথচ ৮০ শতাংশ নম্বর পাওয়া একজন কৃষকের সন্তান চান্স পাচ্ছেন না। এজন্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিবৃত্তিক বিন্যাস এখন পর্যন্ত বিকশিত হতে পারেনি।’
বৈষম্যবিরোধী বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মো. মেশকাত চৌধুরি বলেন, ‘চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো স্বাধীন হওয়ার পর পোষ্য কোটার মতো অযৌক্তিক কোটার বিরুদ্ধে আমাদের আবার রাজপথে দাঁড়াতে হবে এটি খুবই দুঃখজনক। পোষ্য কোটার মতো একটি অন্যায্য বিষয় বহাল রাখার জন্য আবু সাঈদ-মুগ্ধরা জীবন দেন নাই। এ কোটা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ উৎখাত না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।’
আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান বলেন, ‘প্রশাসন যদি মনে করেন, শিক্ষার্থীরা কতদিন রাজপথে থাকবে, কতদিন আর আন্দোলন করবে, একটা সময় আন্দোলন করতে করতে ওরা নিজেরাই বাড়ি ফিরে যাবে। তাহলে আমরা আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই বায়ান্ন, ঊনসত্তর, একাত্তর, নব্বই এবং সর্বশেষ চব্বিশের আন্দোলনের কথা। দেশের শিক্ষার্থীরা তাদের নৈতিক দাবি আদায় না করে কখনো রাজপথ ছাড়ে না, ছাড়বেও না।’
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার। মানববন্ধনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় পোষ্য কোটা বাতিল করতে শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক আন্দোলন করছেন। স্মারকলিপি, আমরণ অনশন, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, লাল কার্ড প্রদর্শন, প্রতীকী ‘কবর’, জুতা নিক্ষেপের মতো কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পোষ্য কোটার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে ২০ সদস্যের একটি পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।
৭৯ জেলেকে ধরে নেওয়াকে ‘ভারতের উসকানি’ মনে করে জামায়াত
দুই দিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল সোনার দাম