একই জায়গা চারজনের কাছে বিক্রি

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৩৮ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রতারণার মাধ্যমে একই জায়গা চারজনের কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে অহিদ নামের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। উপজেলার দৌলখাঁড় ইউপির কান্দার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের দুধা মিয়ার ছেলে। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৈত্রিক সূত্রে ৩০ শতক জায়গার মালিক হন দুধা মিয়া। ২০১০ সালের দিকে ওই জায়গা তার দুই ছেলে অহিদ ও শহিদকে সমান ভাগে ভাগ করে দান কবলা দেন তিনি। পরে অহিদ ও শহিদ প্রবাসে চলে যান। সম্প্রতি অহিদ প্রবাসে ব্যবসা করার সুবাদে তার ভাগের ১৫ শতক জায়গার মধ্যে ৬ শতক জায়গা তার ভাই শহিদ নিকট বিক্রি করার প্রস্তাব দিলে সে ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ওই জায়গা কিনেন।

এরই ফাঁকে গোপনে অহিদ একই গ্রামের ফরিদ আহমেদের ছেলে মোস্তাক আহমেদের কাছে ১৮ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন। একই পদ্ধতিতে ওই গ্রামের মৃত মনির আহাম্মদের ছেলে বিপ্লবের কাছে ওই জায়গা ১৮ লাখ টাকা বিক্রি করে বলে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। সর্বশেষ একই গ্রামের মাস্টার মাহবুবের ছেলে ডাক্তার নজরুল ইসলামের নিকট ওই জায়গা ১৮ লাখ বিক্রি করে দেন। বিদেশ থেকে পাসপোর্টের ফটোকপি পাটিয়ে প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা করে বায়না দলিল করেন অহিদ।

একই জায়গা চার জনের কাছে বিক্রি করার ঘটনাটি জানাজানি হলে এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। সালিশদারেরা তার ভাই শহিদকে ৫ শতক জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেন। পাশাপাশি অহিদ দেশে আসলে বাঁকিদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।

কিন্তু হঠাৎ করে বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ডাক্তার নজরুল ইসলাম ওই জায়গা দখলে নেন। এতে বিপাকে পড়ে যান শহিদসহ অন্যান্য ক্রেতারা। 
এ ঘটনায় মোস্তাক আহমেদ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
 
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শহিদ বলেন, আমার ভাই ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ শতক জায়গা আমার কাছে বিক্রি করেন। আমি ব্যাংকের মধ্যে সেই টাকা পরিশোধ করি। পরে শুনি তিনি ওই জায়গা আরো তিনজনের কাছে বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে এলাকায় বেশ কয়েক বার সালিশ বৈঠক হয়। সালিশদারেরা আমাকে ৫ শতক জায়গা নেয়ার জন্য বলেন। আমি মেনেও গেছি। হঠাৎ বৃহস্পতিবার এ জায়গা দখলে নেন ডাক্তার নজরুল ইসলাম। এখন আমি বাড়িতে থেকে বের হতে পারছি না। চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জায়গাটি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
 
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বিপ্লব বলেন, অহিদ জায়গাটি বিক্রি করবে বলে ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যান। তার পাসপোর্টের ফটোকপি দিয়ে একটি বায়না দলিলও করি। পরে শুনি এ জায়গা আরো কয়েকজনের কাছে বিক্রি করেছেন তিনি। বিদেশে বসে তিনি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। এখন তার টাকার কী হবে। তিনি ঘটনায় বিচারের দাবি জানান।

জায়গা দখলকারী ডাক্তার নজরুল ইসলাম বলেন, চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জায়গাটি আমি কিনি। আমি জায়গাটি নিবন্ধন করে নিয়েছি। আইনের মাধ্যমে আমি জায়গাটি দখল করেছি। 

এ বিষয়ে অহিদের পিতা দুধা মিয়া বলেন, দুই ছেলেকে ১৫ শতক করে ৩০ শতক জায়গা দান কবলা করে দিয়েছি। পরে শুনি অহিদ একই জায়গা ৪ জনের কাছে বিক্রি করেছে। সে আমাকে ঘর থেকে বাহির করে দিয়েছে। আমার জায়গা আমি ফেরত নিব। 

ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, অহিদ ব্যবসা সুবাদে একই জায়গা চারজনের কাছে বিক্রি করেছেন। তারা সবাই আমাদের গ্রামের মানুষ। আমরা চাই সবাই বসে সমস্যাটি সমাধান করতে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার এসআই সমর বড়ুয়া বলেন, এ জায়গা বিক্রির কথা বলে অহিদ তিনজনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে বলে জেনেছি। এদের মধ্যে ডাক্তার নজরুলকে অহিদ জায়গার কবলা দিয়েছে। সে অনুযায়ী নজরুল জায়গা দখল করেছে। তবে অহিদ সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত