আট বছর আগের এক দিন, বেঙ্গালুরুর দুঃসহ স্মৃতি ফিরল সিলেটে। ২০১৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টেন পর্বের ম্যাচ, ভারতের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার তিন বলে এক রান। এমন অবস্থায় তিন বলে তিন উইকেটের পতনই জেতাতে পারত ভারতকে। হয়েছিল ঠিক তাই, ম্যাচের শেষ তিন বলে একে একে আউট হয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
গতকাল সিলেট একাডেমি মাঠে এনসিএল টি-২০-এর দ্বিতীয় দিন, খুলনার বিপক্ষে জিততে শেষ তিন বলে তিন রান লাগত বরিশালের। কিন্তু এই সহজ সমীকরণটাই তারা মেলাতে পারেনি। পরপর তিন বলে রানআউট তিনজন। এই তিন রানআউটেই যার অবদান, সেই নুরুল হাসান সোহান ছিলেন বেঙ্গালুরুতেও। উইকেটের পেছন থেকে তার কাছে দৃশ্যটা পরিচিত মনে হতে পারে, তবে এবার অভিজ্ঞতাটা নিঃসন্দেহে ভিন্নরকম।
খুলনা আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে করে ৯ উইকেটে ১৩০ রান। সোহানের ৩৫ বলে ৩৯ রানের ইনিংসটাই খুলনার সর্বোচ্চ, ২৪ রান করেছেন এনামুল হক। ২৩ রানে ৪ উইকেট কামরুল ইসলাম রাব্বির। জবাবে আব্দুল মজিদের ৫১ ও মইন খানের ৪৩* রানের পরেও বরিশাল হেরেছে এক রানে। জার্সিতে রঙ লেগেছে, লাল বল সাদা হয়েছে, বরিশালের ভাগ্যের রঙ বদল হচ্ছে না। চার দিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতায় বরিশাল শেষ করেছে সবার নিচে, টি-২০ সংস্করণেও দুই ম্যাচের একটিতেও তাদের জয় নেই।
উদ্বোধনী দিনে চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে নামা তামিম ইকবালের স্ফিত মধ্যপ্রদেশ এবং ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের হয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম বুঝিয়ে দিলেন, ওজন বাড়লেও ব্যাটিং ভোলেননি। সিলেটের বিপক্ষে ৩৩ বলে করেছেন ৬৫ রান, ৮ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কায়। তামিম শুরুতে রান তোলার গতি এনে দিলেও পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা সেটা ধরে রাখতে পারেননি, ৯ উইকেটে ১৪৫ রান করতেই ফুরিয়ে যায় ২০ ওভার। ১৯ রানে ৪ উইকেট খালেদ আহমেদের। জবাবে সিলেটের তৌফিক খান তুষার সাত বাউন্ডারি আর আধডজন ছক্কায় ৩৬ বলে ৭৬ রান করলেও অন্যপ্রান্তে কেউই তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি। জিশান আলম সেঞ্চুরির পর শূন্য করেছেন, চার দিনের ম্যাচে সিলেটের সেরা ব্যাটসম্যান অমিতও আউট হয়েছেন শূন্য রানে। ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে সিলেট, অফস্পিনার নাইম হাসান তিন আর বামহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ তিন উইকেট নিয়েছেন।
দিনের দ্বিতীয় ভাগের ম্যাচে রংপুরের কাছে ডিএলএস আইনে ২১ রানে হেরেছে ঢাকা। আগে ব্যাট করে রংপুর করে ৫ উইকেটে ১৪০ রান। আলোর স্বল্পতায় ঢাকার জন্য ১৭ ওভারে ১৩৪ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও ঢাকা করে ৯ উইকেটে ১১২ রান। ঢাকা মেট্রো ৮ রানে হারিয়েছে রাজশাহীকে। মেট্রো আগে ব্যাট করে অলআউট হয় ১৬২ রানে। জবাবে রাজশাহী এক বল আগে অলআউট হয় ১৫৪ রানে। ফরহাদ রেজা ৩৫ বলে ৬০ রান করেও পারেননি দলকে জেতাতে। দুই রাউন্ড শেষে দুটি ম্যাচেই জিতে সমান ৪ পয়েন্ট আছে রংপুর ও ঢাকা মেট্রোর। তবে রানরেটে রংপুর এগিয়ে। অন্যদিকে চার দিনের ম্যাচে শীর্ষ আর সর্বনিম্নের দুই দল সিলেট ও বরিশাল টি-২০-তে এসে একই সমান, দুই ম্যাচ খেলে দুটোতেই হার।
