ঋণ পরিশোধে ২০১৯ সালের নীতি চান টেক্সটাইল ব্যবসায়ীরা

  • ‘ইন্টারেস্ট অনলি’ ঋণ চালুর দাবি
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:৫১ পিএম

বর্তমানের কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন, ওয়েজ, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর জন্য টেক্সটাইল মিলগুলোর পক্ষে সম্ভব নয় দাবি করে ইন্টারেস্ট-অনলি লোন ব্যবস্থা শুরু করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। এছাড়া ঋণ পরিশোধে গত এপ্রিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ঋণ আদায়ের দাবিও জানায় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে দেখা করে এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল গণমাধ্যমকে তথ্যটি জানিয়েছেন।

ইন্টারেস্ট অনলি লোনের ব্যাখ্যা দিয়ে সংগঠনটি বলছে, ইন্টারেস্ট অনলি লোনের মাধ্যমে ঋণগ্রহীতা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শুধুমাত্র সুদ পরিশোধ করবেন এবং মূল ঋণের অর্থ (প্রিন্সিপাল) পরিশোধের জন্য সময় পাবেন। এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে অনেক জনপ্রিয়। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আগামী ২ বছরের জন্য চলমান সব ঋণের ক্ষেত্রে বর্ণিত ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করার জন্য গভর্নরের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে বিটিএমএ।

মঙ্গলবার গভর্নরের কাছে ১০টি দাবি উত্থাপন করেন পোশাক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের নেতারা। এ দশটি দাবির একটি হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা একটি প্রজ্ঞাপনের কারণে মেয়াদী ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মনে করে বিটিএমএ। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডির প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ২০১৯ সালের প্রজ্ঞাপন ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিটিএমএর ভাষ্য, ইউক্রেন-রাশিয়া ও ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ, ২৫০ শতাংশ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের বেতন ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি, সাম্প্রতিককালে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, শ্রমিক অসন্তোষ, প্রয়োজনীয় গ্যাস এবং বিদ্যুত সরবরাহের অভাবে মিলগুলো তাদের সম্পূর্ন উৎপাদন ক্ষমতা (৫০-৬০% অব্যবহৃত) ব্যবহার করতে না পারাসহ অন্যান্য সমস্যার কারণে রপ্তানিমুখী টেক্সটাইল সেক্টরের ইন্ডাস্ট্রিগুলো ব্যাংকের গৃহীত ঋণের কিস্তি বিআরপিডি (সার্কুলার নং ৯ঃ ৮ এপ্রিল ২০২৪) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী পরিশোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো অপারগ হওয়ায় তাদের কারো কারো ওভারডিউ হচ্ছে। এই মুহূর্তে রপ্তানিমুখী প্রাইমারি টেক্সটাইল সেক্টরের ইন্ডাস্ট্রিগুলোর পক্ষে মেয়াদী ঋণের কিস্তি বর্ণিত সার্কুলার অনুযায়ী পরিশোধ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একটি মেয়াদী ঋণ-বিনিয়োগের কোনও কিস্তি নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে পরিশোধ করতে না পারলে, বর্ণিত ঋণ নির্ধারিত তারিখের পরবর্তী তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ওভারডিউ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখ থেকে সব ঋণ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ না করলে তা ওভারডিউ হবে। গ্যাস এবং বিদ্যুতের সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ওই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে অনতিবিলম্বে বিআরপিডি সার্কুলার নং ৩, তারিখঃ ২১ এপ্রিল ২০১৯ অনুযায়ী সব ঋণ পরিশোধের জন্য ৬ মাস সময় নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত