২০০৮ সালে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল টিম সাউদির ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেছিলেন অপরাজিত ৭৭ রান (যা সাউদির ক্যারিয়ারসেরা)। তবু তার দল ম্যাচ হেরেছিল ১২১ রানে। ১৬ বছর পর সাউদি সেই ইংল্যান্ডকে হারিয়েই শেষ করলেন টেস্ট ক্যারিয়ার।
সাউদির হোমগ্রাউন্ড হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ইংল্যান্ডকে ৪২৩ রানে হারায় নিউজিল্যান্ড। টেস্টে রানের হিসাবে নিউজিল্যান্ডের এটি সবচেয়ে বড় জয়। আর টেস্ট ইতিহাসে যৌথভাবে দশম বড় জয় এটি। টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানে জয়ের রেকর্ডটা অবশ্য ইংল্যান্ডেরই। ১৯২৮ সালে ব্রিসবেনে ইংল্যান্ড ৬৭৫ রানে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়াকে।
বিদায়ী টেস্টে সাউদি দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ২ উইকেট। তাতে ১০৭ টেস্টে ৩৯১ উইকেটে শেষ হলো এই ডানহাতি সুইং বোলারের ক্যারিয়ার। চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি এমন কিছু কি আছে? এমন প্রশ্নে সাউদি বলেছেন, ‘১০০ ছক্কা, ৪০০ টেস্ট উইকেট, ১০০ ক্যাচ (৮৬টি নিয়েছেন)Ñ এটা হলে খুব ভালো হতো। তবে যা করতে পেরেছি, তাতেই আমি খুশি।’
টেস্টে নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি সাউদি। ৪৩১ উইকেট নিয়ে শীর্ষে যিনিÑ সর্বকালের সেরা অন্যতম অলরাউন্ডার রিচার্ড হ্যাডলি গতকাল সেডন পার্কে উপস্থিত ছিলেন। সাউদির ক্যারিয়ারে প্রত্যক্ষ অবদান হ্যাডলির। ১৯ বছর বয়সী সাউদিকে আন্তর্জাতিক অভিষেকের সময় হ্যাডলি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধান নির্বাচক।
বিদায়ী টেস্টের পর সাউদিকে স্মারক উপহার দিয়েছেন হ্যাডলি। বলেছেন, ‘৪০০ টেস্ট উইকেট নিয়ে শেষ করতে পারলেই শুধু ব্যাপারটা মানানসই হতো টিমের (সাউদি) জন্য। এটা তার প্রাপ্য ছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে হলো না।’ সেই আক্ষেপ দ্রুতই মুছে গিয়ে সাউদির অন্য মহিমার কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘টিম অবশ্যই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যান ও রেকর্ড ছাড়াও টিমের আরও কিছু বিষয় আছে। মানবিক যেসব বিষয় অনেক সময় দৃষ্টির আড়ালে থেকে যায়। বিশ্বের সব ক্রিকেটারের কাছেই সে খুব সম্মানের পাত্র। মানুষ হিসেবেও সবার পছন্দের।’
