সড়কে ৩০ দিনে নিহত ৪৯৭

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৬:১৮ এএম

দেশে গত নভেম্বর মাসে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৮৪ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এ ছাড়া সারা দেশে সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে ও ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে গত নভেম্বর মাসে ৪১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৯৭ জন নিহত, ৭৪৭ জন আহতের তথ্য পাওয়া গেছে। এই মাসে রেলপথে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৭৯ জন নিহত, ৪৩ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, ২৯ জন আহত এবং ২ জন নিখোঁজ রয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৮২ জন নিহত এবং ৮১৯ জন আহত হয়।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময় ১৬৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯২ জন নিহত, ১১১ জন আহত হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮ দশমিক ৬৩ ও আহতের ১৪ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ১০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৯ জন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২৫৩ জন চালক, ১১৬ জন পথচারী, ১১৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৬৭ জন নারী, ৩৫ জন শিশু, সাংবাদিক ৭ জন, ১ জন চিকিৎসক, ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় মিলেছে। তাদের মধ্যে নিহত হয়েছেÑ ২ সেনাবাহিনীর সদস্য, ১৬৭ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১০৫ জন পথচারী, ৫৫ জন নারী, ২৭ জন শিশু, ৪৫ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩ জন শিক্ষক, ১ জন চিকিৎসক, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংঘটিত ৫৮৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ড ভ্যান ও লরি, ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ বাস, ২০ দশমিক ৫৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৩ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংঘটিত দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ১২ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ বিবিধ কারণে, শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ ট্রেন যানবাহনে সংঘর্ষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত