গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর যেসব সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে, তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কার্ড ‘পুনর্বিবেচনা’ করার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার তথ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যাতে বলা হয়, বাতিল হওয়া কার্ড ‘প্রযোজ্য ক্ষেত্রে’ পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পেশাদার সাংবাদিক যদি কার্ড বাতিলের বিষয়টি ‘ন্যায়সংগত’ মনে না করেন, তবে তিনি লিখিতভাবে কর্র্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
গণমাধ্যমের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) এবং সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকেও এ নিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়। এরই মধ্যে গত বুধবার অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হওয়া সাংবাদিক শেখ মো. রিজভী নেওয়াজ হাইকোর্টে একটি রিট করেন। যার শুনানি শেষে আদালত রিজভী নেওয়াজের স্থায়ী অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল কেন বেআইনি হবে না জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে।
এর এক দিন পর গতকাল তথ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে তথ্য অধিদপ্তর থেকে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। সম্প্রতি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাইয়ের পর অধিদপ্তর থেকে কিছু সংখ্যক অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল করা হয়েছে।
মূলত কার্ড বাতিলের কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন কার্ড নবায়ন না করা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোটার অতিরিক্ত কার্ড গ্রহণ, অপসাংবাদিকতা, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল, ফৌজদারি মামলার আসামি, বিভিন্ন কারণে গ্রেপ্তার ও কারা অন্তরীণ, অপেশাদার ব্যক্তির মাধ্যমে রাজনৈতিক বিবেচনায় কার্ড গ্রহণ, সরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাচার ও প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতিবাচক ভূমিকা ও উসকানি প্রদান, ফ্যাসিবাদের ঘনিষ্ঠ দোসর, গুজব রটনা ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তথ্য অধিদপ্তর সাংবাদিকদের বাতিল করা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। কোনো পেশাদার সাংবাদিক তার কার্ড বাতিলের বিষয়টি ন্যায়সংগত মনে না করলে তিনি তা লিখিতভাবে কর্র্তৃপক্ষকে জানাতে পারবেন। তথ্য অধিদপ্তর সেসব আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এর আগে তিন দফায় ১৬৭ জন সাংবাদিকের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে গণমাধ্যমে পাঠানো নোয়াবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘নোয়াব মনে করে, এই পদক্ষেপ অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করেছে এবং সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি এর অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিগত বেশ কিছু বছরের কালো দিনগুলোতে জাতি ফিরতে চায় না। তাই অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে আমরা মুক্ত সংবাদপত্রের প্রতি হুমকি হিসেবে মনে করি।’
সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে গণমাধ্যমে পাঠানো আরেক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢালাওভাবে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিলের পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের অন্তরায় বলে মনে করছে সম্পাদক পরিষদ। অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল হওয়াদের তালিকায় অনেক পেশাদার ও সক্রিয় সাংবাদিক এবং সম্পাদকের নামও রয়েছে, যা সম্পাদক পরিষদ ও এর সদস্যদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
