৩০০ ফুটে কেন এত দুর্ঘটনা?

  • গাড়ির বেপরোয়া গতি আর বাইকারদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণ
  • প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি
আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৪, ১০:৩৭ পিএম

রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফুট সড়ক যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনই ভয়ঙ্কর। প্রতিনিয়ত সড়কটিতে ঘটছে দুর্ঘটনা। দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) গভীর রাতে সড়কের নীলা মার্কেট এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন মুহতাসিম মাসুদ (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী।

নিহত মুহতাসিম মাসুদ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটারবিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই শিক্ষার্থী।

শুধু বুয়েট শিক্ষার্থী মাসুদই নয়, প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা অথবা অন্য কোনো কারণে ৩০০ ফুট ও আশপাশের এলাকা থেকে লাশ উদ্ধারের খবর আসছে। গত মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে সড়কের বউরারটেক এলাকার ৪ নম্বর সেতুর নিচের লেকপাড় থেকে সুজানা (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে একই স্থান থেকে সুজানার বন্ধু শাইনুর রশিদ কাব্যর (১৬) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিন দুপুরে ৩০০ ফুট সড়কের ভুঁইয়াবাড়ী ব্রিজ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আব্দুর রউফ ও শিপন নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানিয়েছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনার কারণে তাদের (কাব্য ও সুজানা) মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওসি জানান, তারা মূল সড়ক দিয়ে না গিয়ে পাশের পুরনো সড়ক ধরে বাইক নিয়ে যাওয়ার পথে ঘন কুয়াশায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলসহ লেকে পড়ে যায়।

এর আগে ৮ ডিসেম্বর ৩০০ ফিট সড়কে মুরগি বহনকারী একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য একটি গাড়ির পেছনে ধাক্কা লেগে সাকিবুল হাসান সাকিব (১৪) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্র নিহত হয়। এ সময় আহত হয় আরও তিনজন।

কেন সড়কটিতে এত দুর্ঘটনা এমন প্রশ্নে অনেকেই বলছেন, মূলত ৩০০ ফিট সড়কের রাতের মায়াবী দৃশ্য দেখতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসে নগরবাসী। তবে গাড়ির বেপরোয়া গতি আর বাইকারদের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে দিন দিন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সড়কটি।

৩০০ ফুট সড়ক কোথায়?

সড়কটির অবস্থান রাজধানীর উত্তর-পূর্ব দিকে গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানায়। শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর মাঝখানে প্রায় ৬২১৩ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে মনোরম সড়কটি। ঢাকার সঙ্গে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের সংযোগ স্থাপন করেছে এই বিরতিহীন সড়কটি।

রাতের দৃশ্য

যেখানে না আছে কোনো স্টপওভার পয়েন্ট, না কোনো ট্র্যাফিক সিগনাল। কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই আপন গতিতে চলছে প্রতিটি যানবাহন। সার্ভিস লেন থেকে এক্সপ্রেসওয়েতে যাওয়ার জন্য পুরো সড়কটিতে নির্দিষ্ট দুরুত্ব পর পর রয়েছে মোট ৫টি এ্যাটগ্রেড ইন্টার-সেকশন। এগুলোর নিচের আন্ডারপাস বা পাতাল সড়ক দিয়ে গাড়িগুলো চলে যেতে পারে এক্সপ্রেসওয়েতে। এরকম পাতাল সড়ক রয়েছে ১২টি।

বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় দুর্ঘটনা রোধে গত ৩১ অক্টোবর রাতে ৩০০ ফিটে অবৈধ গাড়ি পার্কিং, লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী এবং ট্র্যাফিক পুলিশ। অভিযানে বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালান সেনাবাহিনীর সদস্যরা। লাইসেন্স কিংবা হেলমেটবিহীন যাত্রীদের করা হয় জরিমানাও।

অভিযান থেকে বাদ যায়নি পুলিশ, গণমাধ্যম, ভিআইপি কিংবা দামি ব্র্যান্ডের কোনো গাড়িই। তবে বেপরোয়া যান চলাচল এবং বাইকারদের গতির প্রতিযোগিতায় অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ সড়কটিতে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের। তারা প্রত্যাশা করছেন নিয়মিতই যেন এমন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত