শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৬ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ ৩৩ জনকে নানা মেয়াদে শাস্তি দিয়েছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা উপ-কমিটির সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩৫তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামপরিচয় জানানো হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অপরাধের ধরণ ও মাত্রাভেদে ৬ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার তবে ছাত্রত্ব না থাকলে সনদ বাতিল, ৫ জনকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার, ৪ জনকে ১ বছরের জন্য বহিষ্কার, ২ জনকে ১ সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার, ১ জনকে এক সেমিস্টারের জন্য বহিষ্কার ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, ১ জনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং ১৪ জনের আবাসিকতা বাতিল ও ৫ জনের মুচলেকা প্রদানের মাধ্যমে হলে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ৫ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রমাণিত অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়া হলেও অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে পুনরায় তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা ব্যতীত মুচলেকার মাধ্যমে হলে থাকার অনুমতিপ্রাপ্ত ৫ জনসহ শাস্তিপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।
শাস্তির কারণ হিসেবে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সরাসরি হামলা, র্যাগিং, ষড়যন্ত্র, ইন্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, ভয়ভীতি, হলে সিট বাণিজ্য এবং গণরুমের ছাত্রীদেরকে জোরপূর্বক শ্লোগান দিতে বাধ্য করা, হলের কক্ষের তালা ভেঙে কক্ষ দখল, গভীর রাতে ছাত্রীদের ঘুম থেকে উঠিয়ে নিয়ে মিটিং করা, শিক্ষার্থীদের ব্লাকমেইল করা, শিক্ষার্থীদের জিনিস চুরি, দুর্ব্যবহার করা, নেশাদ্রব্য সেবন করা, উচ্চস্বরে গান-বাজনা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানো, রাতে নিজ কক্ষে নিয়ে গিয়ে অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো, মোবাইল ফোন, পেনড্রাইভ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্রে তল্লাশি চালানো, হত্যার হুমকি দেওয়া, শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন ও অত্যাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে এসব শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘প্রক্টর দপ্তর, বিভিন্ন বিভাগ ও হলে জমা পড়া অভিযোগের প্রেক্ষিতে অপরাধ বিবেচনায় এসব শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আমরা এখনই তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছি না। সিদ্ধান্তের কপি শাস্তিপ্রাপ্তদের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানোর পর সবার পরিচয় প্রকাশ করা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ একটি রাজনৈতিক দলের। তবে তাদের রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো শাস্তি দেওয়া হয়নি বরং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ জায়গায় বার্তা থাকবে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তাকে দল-মত নির্বিশেষে শাস্তি পেতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা অপরাধের শাস্তির বিষয়টি শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আলোচনার পর শাস্তির সুপারিশ করা হয়। পরে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার শৃঙ্খলা কমিটির সভা হওয়ার কথা। পদাধিকারবলে শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন উপাচার্য এবং সদস্যসচিবের দায়িত্বে থাকেন প্রক্টর। আট বছর সবশেষ ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর শৃঙ্খলা কমিটির সভা হয়েছিল। সর্বশেষ ১১ ডিসেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে প্রদত্ত শাস্তি প্রদানের সুপারিশ করা হয়। পরদিন ৫৩৫ সিন্ডিকেট সভায় সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
ব্রাজিলে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ৩৮ জন নিহত
আজ পঞ্চগড়ে বিএনপির সমাবেশ
পাকিস্তান থেকে আসা সেই জাহাজে এবার যা যা এল