দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস পাকিস্তানের

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৫৩ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে নতুন ইতিহাস লিখল পাকিস্তান। জোহানেসবার্গে প্রোটিয়াদের ৩৬ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে এশিয়ার দেশটির কাছে সিরিজ হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের নায়ক সাইম আইয়ুব দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান।

দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য এই হারটা কেবল পাকিস্তানের বিপক্ষেই নয়, ঘরের মাঠে যেকোনো দলের বিপক্ষেই প্রথম ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার রেকর্ড। বৃষ্টির কারণে ৪৭ ওভারে নেমে আসা এই ম্যাচে পাকিস্তান প্রথমে ব্যাট করে তুলে ৯ উইকেটে ৩০৮ রান। জবাবে হেইনরিখ ক্লাসেনের দুর্দান্ত ব্যাটিং সত্ত্বেও ৪২ ওভারে ২৭২ রানেই থেমে যায় স্বাগতিকরা।

এর আগে দুইবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল পাকিস্তান। তবে ২০১৩ ও ২০২১ সালের তিন ম্যাচের দুই সিরিজেই তারা একটি করে ম্যাচ হেরেছিল। এবার সেই ইতিহাস বদলে দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় তুলে নিল রিজওয়ানের দল।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এটি পাকিস্তানের জন্য দারুণ প্রস্তুতি। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বাগতিকদের ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর এবার দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে প্রোটিয়াদের হোয়াইটওয়াশ করল তারা। দলীয় চোটজর্জর পরিস্থিতির মধ্যেও এমন জয় দলকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।

জোহানেসবার্গে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই আবদুল্লাহ শফিকের উইকেট হারায় পাকিস্তান। তবে এরপর ইনিংস সামাল দেন সাইম আইয়ুব ও বাবর আজম। দুজন মিলে গড়েন ১১৪ রানের জুটি। ব্যক্তিগত ৫২ রান করে বাবর আউট হলেও সাইম চালিয়ে যান দুর্দান্ত ব্যাটিং।

অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসটাকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যান সাইম। ৩৪তম ওভারে তুলে নেন সিরিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ৯৪ বলে ১৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ১০১ রান করে করবিন বচের শিকার হন তিনি।

শেষ দিকে ৩৩ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন আগা সালমান। রিজওয়ান করেন ৫৩ রান। সব মিলিয়ে ৯ উইকেটে ৩০৮ রান তোলে পাকিস্তান।

৩০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে হাইনরিখ ক্লাসেন একপাশ থেকে ঝড় তোলেন। মাত্র ৪৩ বলে ১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ৮১ রান করেন তিনি। কিন্তু দলের অন্য ব্যাটাররা ব্যর্থ হওয়ায় জয়ের আশা টিকে থাকেনি। করবিন বচ ৪০ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও সেটা যথেষ্ট ছিল না।

পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে আলো ছড়ান সুফিয়ান মুকিম। ৫২ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। তার দুর্দান্ত স্পেলের কারণেই ২৭২ রানেই গুটিয়ে যায় প্রোটিয়াদের ইনিংস।

ম্যাচসেরার পাশাপাশি সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতেছেন সাইম আইয়ুব। তিন ম্যাচে ৭৮.৩৩ গড়ে ২৩৫ রান করেছেন এই তরুণ ওপেনার। ম্যাচ শেষে সাইম বলেন, 'এই জয় দলের সবার। সিনিয়ররা আমাকে প্রতিটি ম্যাচে সাহায্য করেছেন। প্রতিটি ম্যাচ থেকে আমি শিখতে চাই, সেটাই আমার লক্ষ্য।'

এমন ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিয়ে পাকিস্তান এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে এই জয় তাদের আরও প্রস্তুত হতে সাহায্য করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত