নারী ক্রিকেটের ইতিহাসের আকাশে উদিত হলো এক নতুন সূর্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরির কৃতিত্বে নিজের নাম লেখালেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। রাজশাহীর শহীদ কামারুজ্জামান স্টেডিয়ামের পিচে তার ব্যাট কথা বলেছে ইতিহাসের ভাষায়। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) মধ্যাঞ্চলের হয়ে উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে ১৫৩ রানে অপরাজিত থেকে তুলে নিয়েছেন নিজের কীর্তি।
কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়। কয়েক ঘণ্টা পরই যেন নিগারের সেই সাফল্যের পাশে নিজের নাম লেখানোর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন ফারজানা হক পিংকি। নর্থ জোনের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ১০২ রানে অপরাজিত থেকে তিনিও তুলে নিলেন সেঞ্চুরি। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করায় কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, দ্বিতীয় ইনিংসের এই সাফল্য সেই দুঃখকে প্রশান্তিতে রূপ দিয়েছে নিশ্চয়ই।
নিগার ও পিংকির এমন পারফরম্যান্স স্মরণ করিয়ে দিল ২০১৯ সালের সেই ঐতিহাসিক দিন, যখন নেপালের পোখারায় এসএ গেমসে মালদ্বীপের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন এই দুই ব্যাটার। সেদিন যেমন প্রথম হয়েছিলেন নিগার, সেই ধারাবাহিকতায় এবারও তিনিই রইলেন অগ্রগামী।
এদিকে, নারীদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম জয়ের কীর্তি লেখা হয়েছে সাউথ জোনের নামে। রাজশাহীর বাংলা ট্র্যাক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি মাঠে পূর্বাঞ্চলকে ১০ উইকেটে হারিয়ে নিজেদের নাম ইতিহাসে অমলিন করল তারা। অধিনায়ক রাবেয়া খানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে দক্ষিণাঞ্চল পেল দুর্দান্ত জয়। বল হাতে দুই ইনিংসে ৭ উইকেট আর ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ৭০ রানের ইনিংস খেলে রাবেয়া হয়েছেন ম্যাচসেরা।
সেন্ট্রাল ও নর্থ জোনের ম্যাচে নিগারের ১৫৩ রানের ইনিংস দলকে ৮ উইকেটে ৩৮৭ রানে পৌঁছে দিয়েছিল। জান্নাতুল ফেরদৌসের ৬ উইকেট শিকারের চেষ্টা সত্ত্বেও সেন্ট্রাল বড় লিড নিতে সক্ষম হয়। ১৪৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে উত্তরাঞ্চল দুর্দান্ত শুরু করে। ইসমা তানজিমকে নিয়ে ফারজানা হক পিংকী ১৯০ রানের জুটি গড়েন। ইসমা ৯০ রানে আউট হলেও পিংকী করেছেন সেঞ্চুরি। দুই দলের সম্মতিতে ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করা হয়।
