সরকারের নজর উন্নয়ন বাজেট ও মূল্যস্ফীতিতে

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:২৮ এএম

পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, এতদিন আমরা শুধু উন্নয়ন বাজেটে কাটছাঁটে ব্যস্ত ছিলাম। এবার আমরা বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন, বাজেট কাটছাঁট ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নজর দেব। এখান আমাদের মনোনিবেশ থাকবে এ তিন খাতেই। গতকাল সোমবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা (একনেক) শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। এটি ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের চতুর্থ একনেক সভা।

তিনি বলেন, এখন আমরা বাজেট সমন্বয় করব। এতদিন আমরা এগুলো আস্তে আস্তে এগিয়েছিলাম, এখন কাজগুলো দ্রুত করব। আগামী জানুয়ারির মধ্যে না হলেও ফেব্রুয়ারির মধ্যেই করা হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। কোনো জিনিসের মূল্য একবার বাড়লে সেটি কমানো কঠিন। তবে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি ও ক্রেডিট পলিসি (ঋণ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা) ঠিক করছে বলেও উল্লেখ করেন এ উপদেষ্টা।

মৌলভীবাজারের সাফারি পার্ক প্রকল্পটি বাতিল হয়েছে এ একনেক সভায়। গতকাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, মৌলভীবাজার (১ম পর্যায়) প্রকল্পটি বাতিলের জন্য একনেক সভায় উপস্থাপন করা হয়, পরে প্রকল্পটি বাতিল করার জন্য অনুমোদন করা হয়েছে।

এ সময় পরিকল্পনা উপদেষ্টা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সমালোচনা করে বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠালে তারা কিছুদিনের মধ্যে হ্যাঁ অথবা না একটা উত্তর দিয়ে দেয়। কোনো পর্যালোচনা করে না।

এ প্রকল্পটি বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা অহেতুক প্রকল্প বাতিলের কাজ করছি। আমরা বাজেট ঘাটতি সহনীয় রেখে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংশোধনের কাজ করছি। এতে উন্নয়ন বাজেটের আকার ছোট হলেও প্রবৃদ্ধি কমবে না। আমাদের লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং জনগণের উপকার করা।

বন্যা ও বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতি হওয়া রাস্তাঘাট পুনর্নির্মাণে কোনো উদ্যোগ আছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমি ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে ডিও লেটার দিয়ে বলেছি যে, বিভিন্ন এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে প্রস্তাব পাঠাতে। কেননা, এখন স্থানীয় পর্যায়ে সংসদ সদস্য নেই। আছেন শুধু আমলারা আর উপদেষ্টারা। তাই উপদেষ্টারা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। রাস্তাঘাট কোথায় কী সংস্কার দরকার, সেসব সমাধান করা হবে।

অন্য একটি প্রকল্পের বিষয়ে বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, আমাদের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে প্রচুর গ্যাস মজুদ আছে। আগের সরকার কেন এগুলোতে গুরুত্ব না দিয়ে এলএনজি ও কয়লা আমদানির প্রতি ঝোঁক দিয়েছিল সেটি বড় প্রশ্ন। আমরা আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি মেনেই গ্যাস অনুসন্ধান এবং কূপ খননের কাজ করব। যতটা পারি এ কাজ অব্যাহত রাখা হবে। গ্যাস ও বিদ্যুতে আমরা কোনো নিয়ম ভাঙতে চাই না। তবে গ্যাস উত্তোলনে প্রচুর বিনিয়োগ দরকার।

গতকালের একনেক সভায় ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৯৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৩১ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

গতকাল একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা এবং একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সভা শেষে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘চিলমারী এলাকায় (রমনা, জোড়গাছ, রাজিবপুর, রৌমারী, নয়ারহাট) নদী বন্দর নির্মাণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; কৃষি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প ‘আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ’ প্রকল্প ও ‘কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ’ প্রকল্প; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ‘অর্থনৈতিকভাবে জীবনচক্র হারানো রাবার গাছ কর্তন, পুনঃবাগান সৃজন ও রাবার প্রক্রিয়াকরণ আধুনিকায়ন’ প্রকল্প; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ৩টি প্রকল্প ‘ভোলা নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রের জন্য ৬০ এমএমএসসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন প্রসেস প্ল্যান্ট সংগ্রহ ও স্থাপন’ প্রকল্প; ‘রশিদপুর-১১ নম্বর কূপ (অনুসন্ধান কূপ) খনন’ প্রকল্প ও ‘২ডি সাইসমিক সার্ভে ওভার এক্সপ্লোরেশন ব্লক ৭ অ্যান্ড ৯’ প্রকল্প; মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৬০টি ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন’ প্রকল্প এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (৪র্থ সংশোধিত)’ প্রকল্প ও ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্প।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত