বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও জিয়াউল আহসানকে মামলার অভিযোগ থেকে কৌশলে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টাকারী ডিবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিউ মার্কেট এলাকায় নিহত সবুজ ও শাজাহান হত্যা মামলার চার্জশিট থেকে আসামিদের দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টায় জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় বড়দিন উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইল সেন্ট মেরি ক্যাথিড্রাল গির্জা পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
এ প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘যিনি এ কাজটি করেছেন তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। যদিও তিনি এখন ছুটিতে আছেন। তবে ছুটি বেশি দিন কাটাতে পারবেন না, আমরা তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
জানা গেছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হত্যার দুটি মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন পুলিশের এক তদন্ত কর্মকর্তা। তবে আদালতে ওঠার আগেই বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে আবার তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাটি জানার পরই মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) রমনার পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ১৬ জুলাই ঢাকার নিউ মার্কেট এলাকায় সবুজকে মারধর করে ও শাজাহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরদিন নিউ মার্কেট থানায় মামলা হয়। গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট আনিসুল ও সালমানকে আটক করে এ দুই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর ১৬ আগস্ট গ্রেপ্তার করা হয় সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেজর জেনারেল জিয়াকে।
