ভোটের অনুপাতে সংসদে দলগুলোর প্রতিনিধি চাই: জামায়াত আমির

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:০৮ পিএম

আনুপাতিক পদ্ধতির নির্বাচনের ইঙ্গিত দিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, আগামীতে আমরা এমন নির্বাচন চাই, যেখানে প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে দলগুলো সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। কারণ এই দেশকে কারও হাতে আর আমরা জিম্মি হতে দেব না।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে খুলনার কয়রা উপজেলা সদরের কপোতাক্ষ কলেজ ময়দানে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা মৃত্যুর জন্যে প্রস্তুত হয়ে বুকে গুলি আলিঙ্গন করে তারা রাস্তায় নেমেছে তারা রাস্তা ছেড়ে পালায় না। যারা জনগণকে তাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, গায়ের জোরে, গুলির জোরে দমন করতে চেয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তারাই পালিয়ে গেছেন। অথচ তারা বড় গলায় বলেছিলেন, অমুক (শেখ হাসিনা) পালায় না। আরেকজন (ওবায়দুল কাদের) বলেছিলেন— যাব কোথায় তোমার বাড়ি গিয়ে উঠব, এখন কোথায় আপনি? নিজের পরিচয় দিতে পারেন না কেন?

শেখ হাসিনার সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এনে তারা পালাল। এখন মহাসড়ক খুঁজে পাওয়া না গেলেও রোল মডেল খুঁজে পাওয়া গেছে। শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে টিউলিপ; তার খালা, মা এবং সে তিনজনে মিলে ৫৭ হাজার কোটি টাকা চুরি করেছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ লজ্জা শুধু তাদের নয়, এ লজ্জা দেশবাসীর। তাদের পরিবার ২৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে চুরি করে বিদেশে নিয়ে গেছে। আর দেশে বস্তায় ভরে মাটির নিচে কত টাকা যে লুকিয়ে রেখেছে তা আল্লাই জানেন।

আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, ১৪ সালের নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন, ১৮ সালে হয় নিশিরাতের নির্বাচন আর ২৪ সালে হয় ডামি নির্বাচন। সুতরাং এমন নির্বাচন আর দেশবাসী দেখতে চায় না। ডামি নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু এদেশের ছাত্র-জনতা সে অপশাসন থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করেছেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এমনকি শিক্ষা ব্যবস্থা সব ধ্বংস করেছে। মেয়েদের ইজ্জতের কোনো গ্যারান্টি ছিল না। এসব বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজ ফুসে উঠেছিল। রংপুরের আবু সাইদের মত অসংখ্য ছাত্র-জনতার বুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ এদেশের মালিক ছিল না। তারা দেশের মালিক থাকলে দেশ ছেড়ে পালাতো না। বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে পালায় না, বরং ভাড়াটিয়া খেলাপি হলে পালিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের বেলায়ও তাই হয়েছে। শেখ হাসিনা দেশ থেকে চলে গেলেও দেশকে শান্তিতে রাখতে দিচ্ছে না। চারিদিকে ষড়যন্ত্রের আগুন জ্বলছে।

কয়রা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে ও খুলনা জেলা সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমানের পরিচালনায় কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, খুলনা জেলা জামায়াতের আমির এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।

এর আগে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল বাজারে এবং পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ফুটবল ময়দানে পথ সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত