শুরুর মন্দা বছর শেষে রেকর্ড 

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪, ১১:৩৯ পিএম

কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ে শুরুর মন্দা বছর শেষে রেকর্ডে করল চট্টগ্রাম বন্দর। বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা, যুদ্ধ পরিস্থিতি, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, ডলার সংকট, বন্যা সব মিলিয়ে নাজুক বছরে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহনে রেকর্ড হচ্ছে। এ বছর গত ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর ৩২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮ একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করে। বছর শেষে এই সংখ্যা আরও ৫০ হাজার বাড়তে পারে। এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৮৭ একক কনটেইনার। 

দেশের অভ্যন্তরে ও বিশ্ব জুড়ে অস্থিরতার পরও কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর বলে দেখছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। বছরের শুরু থেকে কয়েক মাস আগ পর্যন্তও আমাদের অর্থনীতি প্রায় নাজুক অবস্থায় ছিল। প্রায় ৮৭টি বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে এক ধরনের অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ছিল। ডলার সংকটে অনেক পণ্যের আমদানি কমে গিয়েছিল। ব্যবসায়ীরা এলসি (ঋণপত্র) খুলতে পারছিল না। 

তারপরও বছর শেষে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বৃদ্ধিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সুখবর উল্লেখ করে বাংলাদেশে শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘এটা সত্যি অবাক করা বিষয়। বছরের শুরুতে অনেকেই এলসিও খুলতে পারেনি। ডলার সংকট তীব্র হয়েছিল। কিন্তু বছরের শুরুতে মানুষ পণ্য আনতে না পারলেও শেষের দিকে ঠিকই এসব পণ্য আমদানি হয়েছে। আর এতে সামগ্রিকভাবে বেড়ে গেছে আমদানি-রপ্তানি।’

বন্দরের উপাত্তের প্রবৃদ্ধি বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন,‘আমাদের রপ্তানি আইটেম তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। বছরের শুরু ও মাঝামাঝিতে ডলার সংকট তীব্রতার সময়ে রপ্তানি বেড়ে গিয়েছিল। বছর শেষে এটাই আমদানি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দিয়েছে।’

বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ করে ওমর ফারুক বলেন, ‘দেশ জুড়ে বন্যা পরিস্থিতি কিংবা রাজনৈতিক অস্থিরতায়ও চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডেলিংয়ে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। আর এতেই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল ছিল।’ 

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করে। আবার রপ্তানি পণ্যেও তারা শীর্ষে। এ বছরের হ্যান্ডেলিং প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রাকিবুল আলম বলেন, ‘পোশাক শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য আইটেমের আমদানি পণ্য যেমন ছিল, তেমনিভাবে রপ্তানি পণ্যও ছিল। আর এ কারণেই বছর শেষে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সংখ্যা বেড়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩২ লাখ ২৩ হাজার ৭৮ কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৫ ও রপ্তানি পণ্য ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ একক কনটেইনার। এসব পণ্য পরিবহনে ৩ হাজার ৮২২টি জাহাজ এ পর্যন্ত ভিড়েছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর আগে ২০২১ সালে ৪ হাজার ২০৯টি জাহাজ ভিড়েছিল চট্টগ্রাম বন্দরে এবং কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ১৪ হাজার ১৮৭। চট্টগ্রাম বন্দর ২০০৭ সালে মাত্র ৯ লাখ ৫৮ হাজার ২০টি একক কনটেইনার হ্যান্ডেলিং করেছিল। আর তা থেকেই বাড়তে বাড়তে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব জুড়ে কনটেইনার পরিবহনে শীর্ষ বন্দরগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর ২০১৯ সালে ৫৮তম অবস্থানে ছিল। পরে তা ২০২০ সালে ৬৭তম, ২০২১ সালে ৬৪তম, ২০২২ সালে ৬৭তম ও ২০২৩ সালে ৬৭তম অবস্থানে উন্নীত হয়।

২০০৭ সালের পর চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন কোনো টার্মিনাল নির্মাণ না হলেও এ বছর থেকে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল। সৌদি আরবের কোম্পানি রেড সি গেটওয়েকে এই টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত