গাজীপুরের কাপাসিয়ার কড়িহাতা ইউনিয়নে একটি আশ্রয়কেন্দ্র বাস করা বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৫) ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সিয়াম (১৯) নামে এক বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে গাজীপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কড়িহাতা ইউনিয়নে ইতালি প্রবাসী খলিলুল্লাহর স্ত্রী পারভীন আক্তার তার বাড়িতে বয়স্ক নারী-পুরুষ ও প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের আশ্রয়কেন্দ্র করেছেন। ‘ছায়া নীড় সেবা কেন্দ্র’ নামে একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে এক বছর ধরে বাস করছে ওই বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরী। তার বাড়ি ময়মনসিংহ। সে আশ্রয়কেন্দ্রে মাঝে মধ্যে সেবাকেন্দ্র ও গৃহস্থালির কাজে সহযোগিতা করে থাকে। গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যার সময় রান্নাঘরে ভাত রান্নার সময় ওই কিশোরীকে এলাকার সিয়াম (১৯) ডেকে সেবাকেন্দ্রের বাইরে নিয়ে যায়। পরে খোকন মিয়া (২৫), জাহাঙ্গীরসহ (৩০) তিনজন মিলে জঙ্গলে একটি পরিত্যক্ত মাটির ঘরে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। পরে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে গত বুধবার রাতে তাদের বিরুদ্ধে কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা করেন।
কড়িহাতা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগ নেতা বিল্লাল হোসেন আপস মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং আসামিদের পালাতে সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।
তবে মজিবুর রহমান জানান, আগে থেকে এ ঘটনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। দুদিন আগে পারভীন আক্তার সিয়ামকে আটক করলে বিল্লাল হোসেন তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। এ সময় তিনি পারভীন আক্তারকে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কাপাসিয়া থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. সিয়ামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে, অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আর ধর্ষিতা কিশোরীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
