শীতের পিঠায় অতিথি আপ্যায়ন

  • শীতকাল মানেই হলো নানা ধরনের পিঠার আয়োজন, রয়েছে স্বাদেও ভিন্নতা
  • কারো কারো পছন্দ মিষ্টি স্বাদের পিঠা, আবার কারো প্রিয় ঝাল স্বাদের পিঠা
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৪:০৪ পিএম

শীতকাল বাঙালির জীবনে এক অনন্য ঋতু। শীতকাল মানেই হলো নানা ধরনের পিঠার আয়োজন, রয়েছে স্বাদেও ভিন্নতা। কারো কারো কাছে পছন্দ মিষ্টি স্বাদের পিঠা আবার কারো কাছে প্রিয় ঝাল স্বাদের পিঠা। এ সময় গ্রাম থেকে শহরে পিঠা-পুলির উৎসব জমে ওঠে। ঘরে ঘরে তৈরি হয় নানান রকমের পিঠা।

শীতের এ সময় নতুন চালের গুঁড়া, খেজুরের গুড়, নারকেল, দুধ, আর অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় নানা রকমের পিঠা। দুধ চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা ও বিভিন্ন ধরনের পিঠার আসরও বসে । আবার এসব পিঠা দিয়ে চলে অতিথি আপ্যায়ন। এখানে কিছু জনপ্রিয় শীতকালীন পিঠার নাম দেওয়া হল:

চিতই পিঠা

চিতই পিঠা মূলত চালের গুঁড়া দিয়ে বানানো হয় এবং বিশেষ মাটির পাত্রে ভাপিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মিষ্টি অথবা ঝাল করে পরিবেশন করা যায়। মিষ্টি চিতই পিঠা খেজুরের গুড় বা নারকেলের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়, আর ঝাল চিতই পিঠা মাংস, ডাল, ডিম, বিভিন্ন ধরনের ভর্তা  দিয়ে খাওয়া হয়। বাংলার মানুষ অতিথি আপ্যায়নে পিঠার বিশেষ স্থান রেখেছে। চিতই পিঠা পরিবেশন করা অতিথি আপ্যায়নের একটি সুপরিচিত প্রতীক, যা উষ্ণতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে।

ভাপা পিঠা

শীতের সবচেয়ে পছন্দনীয় এবং জনপ্রিয় পিঠা হল ভাপা পিঠা। ভাপা পিঠা মূলত বাষ্প দিয়ে সিদ্ধ করে বানানো হয়। রাস্তাঘাটে এমনকী রেস্তোরাঁতে আজকাল ভাপা পিঠা পাওয়া যায়। এই পিঠা অনেক অঞ্চলে ধুপি নামেও পরিচিত। এর ধরনের মধ্যে রয়েছে মিষ্টি ভাপা ও ঝাল ভাপা। এই ধরনের চালের গুঁড়ো দিয়ে ভাপে তৈরি এই পিঠা খেজুরের গুড় ও নারকেলের পুর দিয়ে পরিবেশন করা হয়।

পাটিসাপটা পিঠা

পাটিসাপটা পিঠা একটি জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মিষ্টি পিঠা, যা অতিথি আপ্যায়নের জন্য বিশেষভাবে পছন্দনীয়। শীতের সময়ে, এই পিঠা তৈরি করা হয় এবং খেজুর গুড়ের মিষ্টি ঘ্রাণে এটি আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দুধ, ময়দা ও চিনি দিয়ে তৈরি পাতলা ক্রেপের মধ্যে নারকেল বা ক্ষীরের পুর দিয়ে রোল করা হয়। এই পিঠা বাঙালির একটি অনন্য মুখরোচক খাবার।

চুঙা পিঠা

চুঙা পিটে দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের একটি অনন্য ও ঐতিহ্যবাহী রীতি। এটি সাধারণত উৎসব বা বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য করা হয়। চুঙা হলো বাঁশের একটি বিশেষ অংশ, যা খালি করে নিয়ে রান্নার কাজে ব্যবহার করা হয়। বাঁশের চুঙা ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়ে তাতে চালের গুঁড়ার মিশ্রণ ও নারকেল ভরে দেওয়া হয়। চুঙাটি আগুনের ওপর রেখে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে রান্না করা হয়। চুঙার ভেতর থেকে পিঠা বের করে কেটে পরিবেশন করা হয়। এটি শুধু খাবার নয়, বরং ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির একটি সুন্দর উপস্থাপন।

দুধপুলি পিঠা

পুলি পিঠার স্বাদ আরও বেড়ে যায় যখন তা ভিজানো হয় দুধে। তখন এর নামও পরিবর্তন হয়ে হয় দুধ পুলি। ক্ষীরের মধ্যে সেদ্ধ করা নারকেল ও গুড়ের পুরযুক্ত মিষ্টি এই পুলি পিঠা।

নকশি পিঠা

বাংলা অঞ্চলের নরসিংদী জেলায় এই পিঠার উৎপত্তি। এই পিঠার গায়ে বিভিন্ন ধরনের নকশা আঁকা হয় বা ছাঁচে ফেলে পিঠাকে চিত্রিত করা হয় বলে় একে নকশি পিঠা বলা হয়। এ পিঠা শিল্পকর্মের মতো সুন্দর।

নকশি পিঠা তৈরির জন্য প্রথমে আতপ চালের গুঁড়া বা আটা সেদ্ধ করে কাই করা হয়। এ কাই বেলে রুটি করে তার উপর গাছ, লতা-পাতা ইত্যাদির নকশা তোলা হয়। এটি ভাজা বা রসে ডোবানো অবস্থায় পরিবেশন করা হয়।

ছিটা পিঠা

ছিটা পিঠা বা ছিট পিঠা যে নামেই ডাকা হোক না কেন, গ্রামে অতিথি আপ্যায়নে এর জুড়ি মেলা ভার। এটি মূলত চালের গুড়া দিয়ে তৈরি রুটি পিঠা এবং গ্রাম বাংলার একটি জনপ্রিয় খাবার। তরল গুঁড় কিংবা হাসের মাংস দিয়ে এই পিঠা খেতে অমৃত।

সেমাই পিঠা

শীতের দিনে খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি নানা ধরনের পিঠার স্বাদ মুখে লেগে থাকার মতো। সেমাই পিঠাও সেই তালিকায় রয়েছে এগিয়ে। এই পিঠার আবার এলাকাভেদে রয়েছে একেক নাম। তবে তৈরি করার পদ্ধতি অনেকটা সেমাইয়ের মতো বলে একে সেমাই পিঠা নামেই বেশি ডাকা হয়। সেমাই, দুধ, ও চিনি দিয়ে তৈরি এ পিঠা মিষ্টি স্বাদের জন্য বিখ্যাত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত