তার অভিনয়ের শুরুটা ছিল নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে নাটক দিয়ে, প্রায় এক দশকেরও আগে। এরপর আরও কিছু নাটক করেছেন, করেছেন সিনেমাও। কিন্তু সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমার রাজ্জাক চরিত্রে যতটা প্রশংসা পাচ্ছেন, এমনটা আগে কখনও পান নি। বলছিলাম তরুণ অভিনেতা শাহজাহান সম্রাটের কথা।
তার ভাষ্যে, অনেক দিন থেকেই কাজ করছি কিন্তু এতটা এপ্রিশিয়েট আগে কখনও পাই নি। মুক্তির পর দর্শক প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে এই অভিনেতা বলেন, ‘দর্শকের প্রতিক্রিয়া খুবই ভালো। এখন পযর্ন্ত আমাকে কোনো দর্শক বলে নাই কিংবা একজন দর্শক পাই নি যিনি বলেছেন যে আমাদের এই সিনেমাটা ভালো লাগেনি এবং রাজ্জাক চরিত্রটি ভালো লাগেনি। বরং অনেক বেশি আশীর্বাদ এবং অনেক বেশি ভালোবাসা,দোয়া এসবের ভিতর দিয়ে যাচ্ছি এখন।’
ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে কি ধরণের মন্তব্য পেয়েছেন, এমন প্রশ্নে সম্রাটের উত্তর, ‘সেটা তো আসলে সবাই দেখছে, শুনছে। এটা তো ওপেন মানে সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে দেখতে পাচ্ছেন সবাই কি বলছে। আমার কাছে যেগুলো বললো, যেমন সিনেমার রাজ্জাক কোথায় গেলো, রাজ্জাকের মতো বন্ধু একজন না থাকলেই নয়, তারপরে লাভ ইউ রাজ্জাক। এরকম অনেক অসংখ্য অসংখ্য।’
দর্শকদের এমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, মন্তব্যে উচ্ছ্বসিত শাহজাহান সম্রাট। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বললেন, আমার খুব ভালো লাগছে, খুবই ভালো লাগছে। অদ্ভুত এক অনুভূতি, ভাষায় প্রকাশের মতো না।
‘প্রিয় মালতী’র রাজ্জাক হয়ে ওঠা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, এই প্রশ্নে তার সপাট জবাব, ‘আসলে প্রতিটি কাজই চ্যালেঞ্জিং এবং প্রতিটা কাজের চ্যালেঞ্জের ধরণ আবার আলাদা। ‘প্রিয় মালতী’র চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে ম্যাক্সিমাম আউটডোর, আগুন, গ্যাস, কস্টিউম, ধূলাবালি এগুলো ছিল অনেক....। আবার এগুলো না হলে এই সিনেমার সৌন্দর্য বা যেটা দেখে দর্শকের ভালো লাগছে সেটা থাকতো না। আমার মনে হয় যে কষ্ট করেছি বলেই বা কষ্ট হয়েছে বলেই এখন দর্শক এখন এত এত ভালোবাসা দিচ্ছে।’
নুরুল আলম আতিকের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ ছিল শাহজাহান সম্রাটের প্রথম সিনেমা, এরপর ‘চিরঞ্জীত মুজিব’। ‘প্রিয় মালতী’ তার তৃতীয় সিনেমা।
সম্রাটের ভাষ্যে, ‘শঙ্খ দাশ গুপ্ত পরিচালিত ‘প্রিয় মালতী’ সিনেমাটি আমার জন্য এক সৌভাগ্যের নাম। এই সিনেমা আমার জন্য অনেক বড় একটা গুড লাক, গুড উইশ। যদি আমার ক্যারিয়ার গ্র্যাফের দিকে তাকাই, আমি খুবই বিচ্ছিন্নভাবে অভিনয় করে আসা মানুষ। প্রথমত, পথনাটক করেছি, থ্রিয়েটার করেছি। এরপর টেলিভিশনে কাজ করার চেষ্টা করেছি। টেলিভিশনে আমার খুব ভালো কাজ অথবা রিমার্কেবল কিছু নেই। ছোট ছোট করে করার চেষ্টা করেছি, শিখেছি। আসলে আমার ইচ্ছেটাই ছিল সিনেমা করবো।
আমার স্বপ্ন, ধ্যান হচ্ছে সিনেমা। বড় পর্দায় নিজেকে এক্সপ্লোর করবো এটাই ছিল আমার একেবারে ধ্যান-জ্ঞানের জায়গায়। ছোট পর্দায় আমি শুধু কেবল সাঁতরে বেরিয়েছি, চেষ্টা করেছি। কোথাও যেন আমার হয়ে উঠছিল না। দর্শকদের সাথে কোথাও যেন একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ হচ্ছিলো। নয়তো আবার এটাও হতো পারে যে আমিও হয়তো বুঝে উঠতে পারছিলাম না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সবসময়ই ডিরেক্টর ওরিয়েন্টেড আর্টিস্ট। কখনোই প্রযোজক পর্যন্ত যাওয়ার জায়গাটা আমার ছিল না। ২০১৪ সালে নুসরাত ইমরোজ তিশার সঙ্গে ‘ভাষা ও মা' নাটক করেছিলাম। এই নাটকটির পর আমার কিন্তুু তেমন কোনো টেলিভিশনে ভালো কাজ নেই। এরপরও কিছু কাজ করেছি কিন্তু সেটা টিকে থাকার জন্য, স্ক্রিনে থাকার জন্য বা নিজের চর্চাকে চালিয়ে যাবার জন্য। আমার মনো জগতের মধ্যে সিনেমা রাজ করেছে সারাক্ষণই। আমাকে সিনেমার ওই জায়গাটায় যেতে হবে। আমার সত্যিকারের অভিনয়টা বা শিল্পটাকে নিয়ে দাঁড়াতে চাই। আমাকে আসলে ওইখানে গিয়ে দাড়াতে হবে।’
‘লাল মেরগের ঝুঁটি’ সিনেমার পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে শাহজাহান সম্রাট বলেন, ‘প্রথম সিনেমায় কিন্তুু কেউ নতুন কাউকে সুযোগ দিতে চান না। সেদিক থেকে নুরুল আলম আতিক ভাই আমার জীবনে অনেক বড় একটা অবদানের নাম। তিনি আমাকে সেই সুযোগ টা করে দেন। আমি সবসময় শেখার মানসিকতা নিয়ে চলি। নূরি পাথর খোঁজার মতো করে আমি আমাকে খুজেছি। নির্মাতাদের চোখের ভিতরে, মনের ভিতরে আমি আমাকে খুঁজেছি। আমার প্রথম শক্তির জায়গাটা নির্মাতারা। তারাই আমাকে আজকের এই শাহজাহান সম্রাট বানিয়েছে। আমি বড়দের সাথে কাজ করে করে শিখেছি, আমাদের সমসাময়িক কিংবা আমার পরবর্তী প্রজন্মের যারা কাজ করছে তাদের কাছ থেকেও শিখছি। আমার শেখার চর্চাটা কন্টিনিউ রাখবো।’
প্রিয় মালতীর রাজ্জাক তার জীবনে অনন্য হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি। সম্রাট বলেন, ‘যে ছেলেটা সিনেমা করতে চেয়েছে সে এখন তার ওই রাজ্জাক চরিত্রটিকে বড় পর্দায় দেখছে, কীভাবে সে রাজ্জাক হয়ে উঠেছে। দর্শক সেই রাজ্জাককে নিয়ে কথা বলছে, ভালোবাসায় সিক্ত করছে। সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। পুরো সিনেমায় ‘প্রিয় মালতী’ শব্দটা কিংবা সিনেমার নামটা একজন মানুষের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়, তাও শুধুমাত্র একটিবার। সেটিও রাজ্জাকের মুখে। রাজ্জাক চরিত্রে যেভাবে দর্শক আমাকে গ্রহণ করেছে এরকম ভালোবাসা আমার ক্যারিয়ারের আজ পর্যন্ত পাইনি। দর্শকের ভালোবাসাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় পুরষ্কার। দর্শকই আমার শক্তি, এই জায়গাটা বুঝে ওঠতে পেরেছি। আমাকে অনেক দূর যেতে হবে, অনেক পথ চলতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি এত এত কাজ করেছি যেখানে একটি লাইন হলেও কেউ বলেছে যে, এই এক্সপ্রেশনটা এমন হলে ভালো হতো কিন্তুু একমাত্র এই সিনেমায় (প্রিয় মালতী) কেউ এখন পর্যন্ত বলে নাই যে, এই জায়গায় এমন হতে পারতো। এটা এক অদ্ভুত অনুভূতি।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘দর্শক এই সিনেমাটা যদি দেখে তাহলে একটা নতুন অনুভূতি নিয়ে, খাঁটি বাংলা সিনেমা দেখার আনন্দ নিয়ে যেতে পারবে এবং সঙ্গে অনেক প্রশ্ন, অনেক চিন্তা। নতুন করে আরও একবার ভাববার ব্যাপার আছে। আমরা কীভাবে দেখবো বা কেমন সবকিছু। সবকিছুরই রিক্রিয়েশন হয়। আমি মনে করি বাংলা সিনেমারও একটা নব জোয়ার হতে পারে যদি দর্শকরা আমাদের একটু ভালোবেসে, আমাদের উপর আস্থা রেখে আমাদের সঙ্গে থেকে সিনেমাগুলো দেখে। একটু ধৈর্য নিয়ে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রির মতো আমরাও সামনে আরও ভালো কিছু দিতে পারবো।’
মেহজাবীনে মুগ্ধ জয়া আহসান, হয়ে গেলেন অভিনয়ের ভক্ত!