মেলবোর্নে ভারতের প্রথম ইনিংসে ১১৫তম ওভারটি করতে এলেন স্কট বোল্যান্ড, তৃতীয় বলটি নিতিশ কুমার দর্শনীয় শটে মিডঅন দিয়ে সীমানাছাড়া করতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল গ্যালারি। দলের মহাবিপদে আট নম্বরে নেমে যে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকালেন চতুর্থ টেস্ট খেলতে নামা নিতিশ কুমার রেড্ডি। ক্রিজের অপর প্রান্তে তখন শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গে মোহাম্মদ সিরাজ। নিতিশের ব্যাটে ভর করেই মেলবোর্ন টেস্টের তৃতীয় দিনে ফলোঅন এড়িয়ে লড়াইয়ে ফিরেছে ভারত। ১১৬ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান। ১১৬ রানে পিছিয়ে তারা।
অস্ট্রেলিয়ার ৪৭৪ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে ভারতের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৬৪ রান। নিতিশ অপরাজিত ছিলেন ৪০ রানে। শঙ্কা জেগেছিল ফলোঅনের। তৃতীয় দিনে দলীয় ২২১ রানে ভারত হারায় সপ্তম উইকেট। অষ্টম উইকেটে ১২৭ রানের দারুণ জুটি গড়েন নিতিশ ও ওয়াশিংটন সুন্দর। এই উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৮ সালে সিডনিতে শচিন টেন্ডুলকার ও হরভজন সিংয়ের ১২৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। ওয়াশিংটন সুন্দর ১৬২ বলে ৫০ রান করে নাথান লায়নের শিকার হন। বুমরাও ফেরেন শূন্য রানে। নিতিশ তখন দাঁড়িয়ে ৯৯ রানে। কোনোরকমে ওভারের শেষ তিন বল সামাল দেন সিরাজ। পরের ওভারে সেঞ্চুরি তুলে নেন নিতিশ। ১৭১ বলে ১০ চার ১ ছক্কায় ঠিকই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ২১ বছরের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেঞ্চুরি করা ভারতের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার এখন তিনি। সেঞ্চুরি করেন ২১ বছর ২১৬ দিন বয়সে। তবে বক্সিং ডে টেস্টে এত কম বয়সে কোনো ভারতীয়ের শতরান ছিল। আগের নজির ছিল বীরেন্দ্র সেবাগের। ২০০৩ সফরে ১৯৫ রান করেছিলেন তিনি। তখন সেবাগের বয়স ছিল ২৫ বছর ৬৭ দিন। আট নম্বরে নেমে কোনো ভারতীয়র সর্বোচ্চ রানের ইনিংস খেলে ফেলেছেন নিতিশ। এর আগের রেকর্ডটি ছিল অনিল কুম্বলের। অ্যাডিলেডে ২০০৮ সালের সফরে ৮৭ রান করেছিলেন তিনি।
নিতিশের প্রথম টেস্ট সিরিজ এটি। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আগের তিন টেস্টে পাঁচ ইনিংস ব্যাট করার সুযোগ পান। অভিষেকের পর থেকে নিতিশের ইনিংসগুলো ছিল এমনÑ ৪১, ৩৮*, ৪২, ৪২, ১৬। যা ৭-৮ নম্বরে খেলা ব্যাটারের জন্য ভালোই বলতে হবে। তবে মেলবোর্নে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে নতুন করে চেনালেন নিতিশ। গতকাল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন। তাতে নিতিশের টেস্ট গড় দাঁড়ায় ৭১-এ।
ছেলের সেঞ্চুরি গ্যালারি থেকে দেখেন নিতিশের বাবা। খুশিতে চোখে পানি আসে নিতিশের বাবার। পরে নিতিশের বাবা বলেন, ‘হাতে একটিই উইকেট ছিল এবং নিতিশ ৯৯ রানে ছিল। খুব চিন্তায় পড়েছিলাম। সিরাজকে ধন্যবাদ কোনো রকমে ওই ওভার কাটিয়ে দেওয়ার জন্য।’ নিতিশের বাবার কান্না ও বক্তব্য পরে ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
