স্মার্ট সঞ্চয়ে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন

বিকাশ অ্যাপে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস সেবা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৭:৫৩ পিএম

নিউজ ডেস্ক: সারা মাসের কষ্টার্জিত অর্থ খুব একটা ভাবনা-চিন্তা ছাড়া প্রায়শই খরচ হয়ে যায়। তাই মাস শেষে সঞ্চয় বা নতুন কিছু করা হয়ে ওঠে না। এই বিষয়টি উপলব্ধি করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিপিএস চালু করেছে বিকাশ, যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্যই উপযোগী।

ঘরে বসে কাগজপত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়াই বিকাশ অ্যাপ থেকে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক এবং ব্র্যাক ব্যাংক-এ ৩৩ লাখের বেশি সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস খুলেছেন বিকাশ গ্রাহকরা। মাত্র তিন বছরে এমন অভাবনীয় সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি গ্রাহকদের সঞ্চয়ের মানসিকতাতেও আমূল পরিবর্তন এনেছে উদ্ভাবনী এই সেবা। এদিকে, এই গ্রাহকদের যাদের ডিপিএস-এর মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে, তাদের ৯৬ শতাংশই আবার বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস খোলার ইচ্ছা পোষণ করেছেন।
বিকাশ অ্যাপে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডিপিএস পরিক্রমা।

দেশের অন্যতম শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মাসিক ডিপিএস দিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যাত্রা শুরু হয় বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস সেবার। এরপর পর্যায়ক্রমে যুক্ত হয় বাকি চারটি ব্যাংকের ডিপিএস। আর বিকাশ অ্যাপে সাপ্তাহিক ডিপিএস সেবা চালু হয় ২০২৪-এর প্রথমার্ধে। সাধারণ ডিপিএস-এর পাশাপাশি যে গ্রাহকরা ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক সঞ্চয়ে আগ্রহী, তাদের জন্য আনা হয় সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএস সেবা।

বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস খোলা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. ইয়াসিন বলেন, ‘বাসার বড় ছেলে হিসেবে আমার অনেক দায়িত্ব। বাবা নেই, তাই ভাই-বোন ও মায়ের সব প্রয়োজন তো আমাকেই পূরণ করতে হয়। জীবনের অঙ্কটা মেলাতে হয় আমাকেই। টিউশন করাতে নিয়মিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে যাই। প্রতিদিনের আড্ডাটাও সেখানেই হয় বেশি। আর যেহেতু আমার স্টুডেন্টরা প্রতি মাসের বেতন বিকাশেই দেয়, তাই এক দিন ভাবলাম আড্ডায় ঘোরাঘুরিতে খরচ কমিয়ে কিছু টাকা জমানো দরকার। সেই ভাবনা থেকেই বিকাশ অ্যাপে একটা ডিপিএস খুলে ফেললাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিকাশ-এ সব সময় ব্যালেন্স থাকায়, জমানোটাও সহজ ছিল। দেখতে দেখতে এক দিন ডিপিএসটা ম্যাচিউরড হয়ে যায়। সে সময় আবার আমার ছোট ভাই বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। তাই ছোট ভাইকে বিদেশ পাঠাতে ডিপিএসের পুরো টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা মিলিয়ে সে খরচ সামলাই। আমার ভাই এখন বিদেশে। বেশ ভালোই আছে। পরিবারও খুশি।’

বিকাশ-এ ডিপিএস খোলার মাধ্যমে তরুণরা বিশেষ করে ছাত্র-ছাত্রীরা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী হয়ে উঠতে পারে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনার সুবিধা তাদের সময় বাঁচাতে এবং বারবার ব্যাংকে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে সাহায্য করছে। ফলে, আর্থিক ব্যবস্থাপনার শিক্ষার পাশাপাশি পড়াশোনায়ও কোনো ধরনের বিলম্ব হবে না।

আবার, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই বিকাশ-এর অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো সমাজের সর্বস্তরে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি টেকসই করার একটি হাতিয়ার সঞ্চয়। উল্লেখ্য, বিকাশ অ্যাপে ডিপিএস খোলা গ্রাহকদের ৩০ শতাংশই নারী, যা তাদের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতির প্রতিফলন।

বিকাশ-এ ডিপিএস খোলার প্রক্রিয়া

গ্রাহকরা মুহূর্তে বিকাশ অ্যাপে প্রতিষ্ঠান ও ডিপিএসের ধরনভেদে (সাপ্তাহিক বা মাসিক) ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৪ বছর মেয়াদে ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জমাতে পারছেন। আবার সাধারণ ডিপিএস-এর পাশাপাশি ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক সঞ্চয়ে আগ্রহী গ্রাহকদের জন্য আছে সিটি ব্যাংক ও ঢাকা ব্যাংকের ইসলামিক ডিপিএস সেবা।

নতুন ডিপিএস খুলতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ আইকনে ট্যাপ ‘নতুন সেভিংস খুলুন’-এ ক্লিক করতে হবে। সেভিংস-এর ধরন থেকে পছন্দ অনুযায়ী ‘সাধারণ সেভিংস’ অথবা ‘ইসলামিক সেভিংস’ বেছে নিয়ে সেভিংসের সময়কাল ৬ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৪ বছর এবং জমার ধরন থেকে ‘মাসিক বা সাপ্তাহিক’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর প্রতি মাসে যে পরিমাণ টাকা জমাতে ইচ্ছুক- ন্যূনতম ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা-নির্বাচন করতে হবে।

পরের ধাপে আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংকের তালিকা থেকে পছন্দের ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করতে হবে। এরপর জমার তথ্য ভালোভাবে দেখে নমিনি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। এরপর ডিপিএস-এর সার-সংক্ষেপ দেখে নিয়ে এবং নিয়ম ও শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে, বুঝে সম্মতি দিয়ে সব শেষে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর দিয়ে স্ক্রিনের নিচের অংশ ট্যাপ করে ধরে রাখলেই ডিপিএস-এর আবেদন সম্পন্ন হয়ে যাবে। আবেদন সম্পন্ন হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিকাশ ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহক তার মোবাইলে নিশ্চিতকরণ মেসেজ পেয়ে যাবেন।

লাইভ ড্যাশবোর্ড, স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি জমা ও খরচ ছাড়াই ক্যাশ আউট সুবিধা

প্রতি মাস বা সপ্তাহে নির্ধারিত তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকা সাপেক্ষে কিস্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিপিএস-এ জমা হয়ে যাবে। নির্ধারিত তারিখের আগেই মেসেজের মাধ্যমে গ্রাহককে কিস্তি জমার তারিখ স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। গ্রাহকরা যেকোনো সময় অ্যাপ থেকে মোট জমার পরিমাণ, সঞ্চয়ের মেয়াদ এবং মুনাফার পরিমাণসহ প্রয়োজনীয় সব তথ্য দেখে নিতে পারবেন। মেয়াদপূর্তিতে মুনাফাসহ মূল টাকা ফেরত আসবে বিকাশ অ্যাকাউন্টে, যা ক্যাশ আউট করা যায় কোনো খরচ ছাড়াই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত