বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের একাদশতম আসরে এসেও যে কলঙ্ক থেকে মুক্তি মেলেনি তা হচ্ছে খেলোয়াড়দের পাওনা পরিশোধে অনিয়ম। পেশাদার ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ফিকা (যা এখন ডাব্লিউসিএ নামে পরিচিত) যে ৬টি টুর্নামেন্টকে পারিশ্রমিকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে প্রতিবেদন দিয়েছিল, তার মধ্যে একটি বিপিএল। গ্লোবাল সুপার লিগ খেলতে গিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লেগস্পিনার ইমরান তাহির টসের পর বলেছিলেন যে রংপুর রাইডার্স তাকে পুরো টাকা দেয়নি। এবারের আসরকে যতই ‘নতুন বিপিএল’ নামে ডাকা হোক না কেন, পুরনো সেই সমস্যা রয়েই গেল।
খেলা মাঠে গড়ানোর আগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের ৫০ ভাগ পরিশোধের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিই খেলোয়াড়দের টাকা দেয়নি। দুর্বার রাজশাহীর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় স্পষ্ট করেই বলেছেন, বিসিবির দিকে তাকিয়েই তারা টাকা না পেয়েও খেলছেন, ‘না! আমরা এখনো পাইনি। কেউই পায়নি। আমার মনে হয়, মাত্র শুরু হয়েছে বিপিএলটা। আমরা আসলে কোনো প্রশ্ন বা কোনো জটিলতা না তুলি। ক্রিকেটাররাও এটা চাই না। বিপিএলটা বিশ্বের সবাই দেখে। এ রকম কোনো খবর না আসুক। বা আমাদের দেখতে না হোক বিশ্ব ক্রিকেটে পারিশ্রমিক না পাওয়া নিয়ে কোনো খবর আসছে। আমাদের কিন্তু ড্রেসও এসেছে অনেক দেরিতে। অনেকের গিয়ারস (ক্রিকেটের সরঞ্জাম) এসেছে দেরিতে। তো বিপিএলটা আমরা ইতিবাচকভাবে নিতে চাই। অবশ্যই মালিকরা না দিয়ে তো যাবে না। বা বিসিবি তো এটার ব্যবস্থা করবে। আমরা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে নিচ্ছি।’
অতীতে অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি পাওনা পরিশোধ না করেই পাততাড়ি গুটিয়েছে, তাদের হয়ে পাওনা পরিশোধ করেছে বিসিবি। এবারও যদি সে রকম কিছু হয়, তাহলে বিজয় ভরসা রাখছেন বিসিবির ওপরই, ‘(পারিশ্রমিক না দিয়ে) চলে যাবে? তা হলে বিসিবি আছে।’ বিসিবি সেই পাওনা পারিশ্রমিক আসলে পরিশোধ করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জমা রাখা ব্যাংক গ্যারান্টি থেকে। তবে এবারের আসরে একমাত্র বরিশাল বাদে কোনো দলই ৩ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়নি।
