মেলবোর্ন টেস্টের পঞ্চম দিনের তিন সেশন কাটিয়ে দিতে পারলেই ড্র স্বস্তি সঙ্গী হতো ভারতের। তাতে সিরিজেও থাকত সমতা। প্রথম সেশনে ৩ উইকেট হারানো ভারত দ্বিতীয় সেশনে যশস্বী জয়সওয়াল এবং রিশভ পান্তের ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ক্রমেই হতাশা বাড়ছিল স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার। জুটি ভাঙতে প্যাট কামিন্স বল তুলে দেন পার্টটাইম বোলার ট্রাভিস হেডের হাতে। নিজের করা চতুর্থ ওভারে হেড পান্তকে ফেরাতেই তাসের ঘরের মতো ধস নামে ভারতের ইনিংসে। একের পর এক উইকেট হারিয়ে বক্সিং ডে টেস্টে ১৮৪ রানে হারে রোহিত শর্মার দল। ভারত তাদের শেষ ৭ উইকেট হরিয়েছে মাত্র ৩৪ রানে। এই জয়ে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া।
তার আগে পঞ্চম দিনে অস্ট্রেলিয়া উইকেটে টিকেছিল মোটে ২ ওভার। জাসপ্রিত বুমরার পঞ্চম শিকার হয়ে নাথান লায়ন আউট হলে ২৩৪ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস। ভারতের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪০ রানের। মেলবোর্নে শেষ ইনিংসে এই রান তাড়ার রেকর্ড নেই। ভারত জয়ের চেষ্টাও করেনি। তবে এভাবে তাদের হারতে হবে, সেটা হয়তো কল্পনায়ও ছিল না।
প্রথমে এক ওভারে দুই উইকেট নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলেন কামিন্স নিজেই। রোহিত ৯ ও রাহুল শূন্য রানে সিøপে ক্যাচ দেন। তাতে মাত্র ২৫ রানেই ২ উইকেট হারায় ভারত। কোহলিও হতাশ করেন। এবার শুরুতে অফ স্টাম্পের বাইরের বল ছাড়ছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতির আগে ধৈর্য হারিয়ে বসেন বিরাট। মিচেল স্টার্কের একটি বাইরের বল খেলার লোভ ছাড়তে পারলেন না। ৫ রানের মাথায় খোঁচা মেরে সিøপে আউট হন তিনিও। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। তবে শুরুর চাপ ভালোই সামলাচ্ছিলেন জয়সওয়াল ও পান্ত। দ্বিতীয় সেশনে উইকেট না হারিয়েই পার করে ভারত। শেষ সেশনে ব্যাটিংয়ে নামার আগে তাদের হাতে ছিল ৭ উইকেট। তবে হেডের বলে ধরা পড়েন পান্ত। ১০৪ বলে ৩০ রান করেন তিনি। তাতে ভাঙে ৮৮ রানের জুটি। পান্ত আউট হওয়ার তিন ওভার পর মাত্র সাত বলের মধ্যে আরও ২ উইকেট হারায় ভারত। জাদেজা ২, রেড্ডি ১। তবু আশা টিকে ছিল জয়সওয়ালে। এক প্রান্ত আগলে ব্যাট করছিলেন এই ওপেনার। ২০৮ বলে ৮৪ রান করা জয়সওয়াল ফিরেছেন তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলার সাহসী এক সিদ্ধান্তে। কামিন্স রিভিউ নেওয়ার পর রিপ্লেতে দেখা যায় বল ব্যাট ও গ্লাভস ছুঁয়েছে। শরফুদ্দৌলাও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় জানান, তিনি স্পষ্ট করেই দেখতে পেয়েছেন বলের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। যদিও স্নিকোমিটারে কোনো দাগ দেখা যায়নি। জয়সওয়ালের বিদায়ের পরেই মূলত অস্ট্রেলিয়া মাঠে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে। বাকিদের দ্রুত সাজঘরে ফেরাতে অসি ফিল্ডাররা ব্যাটসম্যানদের ঘিরে ফেলে। লেজের তিন ব্যাটার আকাশ দীপ (৭), বুমরা (০) ও সিরাজ (০) দ্রুত ফিরলে জয়ের আনন্দে ভাসে অস্ট্রেলিয়া।
নিশ্চিত ড্র হাতছাড়া হওয়ায় হতাশ হলেও আশা ছাড়ছেন না ভারত অধিনায়ক রোহিত, ‘আমি জানি কোথায় দাঁড়িয়ে। অতীতের কথা ভেবে সময় নষ্ট করতে চাই না। কিছু ফলাফল আমাদের পক্ষে যায়নি ঠিকই। অধিনায়ক হিসেবে বেশ হতাশ লাগছে। অনেক কিছুই করার চেষ্টা করছি। কোনো কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না। মানসিকভাবে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক।’
