টাইমড আউট বিতর্ক ছাপিয়ে খুলনার জয়

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৫, ০৭:৪৩ এএম

ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম ‘টাইমড আউট’ নিয়ে কী তোলপাড়টাই না হয়েছিল। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ব্যাটিংয়ে নামতে দেরি করায় নাজমুল হোসেন শান্তর পরামর্শে টাইমড আউটের আবেদন করেছিলেন তখনকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলে ম্যাথিউস রেগে আগুন হয়ে গিয়েছিলেন। এমনকি ক্রিকেটবিশ্ব দুই ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। গতকাল বিপিএলে চিটাগং কিংস বনাম খুলনা টাইগার্স ম্যাচে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা হয়নি। ৩৭ রানের জয় দিয়ে বিপিএল শুরু করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের খুলনা।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা টাইগার্স তুলেছিল ৪ উইকেটে ২০৩ রান। ৩৭ রানে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর অধিনায়ক মিরাজের সঙ্গে ৩৭ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন অস্ট্রেলিয়ান অল-রাউন্ডার উইলিয়াম বেসিসটো। মিরাজ ১৮ বলে ১৮ করলেও বিপিএল অভিষেকেই বেসিসটো খেলেন ৫০ বলে ৭৫ রানের ইনিংস। পঞ্চম উইকেটে মহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সঙ্গে আরেকটি জুটি গড়েন বেসিসটো। ৩৫ বলে ৮৬ রানের সেই অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই খুলনার স্কোর ২০০ ছাড়িয়ে যায়। ১৯ বলে ফিফটি পূরণ করেন অঙ্কন, যা বিপিএলে কোনো বাংলাদেশির দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এর আগে ২০২৩ সালে জানুয়ারিতে রংপুর রাইডার্সের হয়ে মিরপুরের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের বিপক্ষে ১৯ বলে ৫০ ছুঁয়েছিলেন রনি তালুকদার। অঙ্কন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ১ চার ৬ ছক্কায় ৫৯ রানে। চিটাগংয়ের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন আলিস আল ইসলাম এবং খালেদ আহমেদ।

বোলিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই চার নো বল এবং এক ওয়াইড মিলিয়ে ১৮ রান দিয়ে বসেন খুলনার ক্যারিবিয়ান পেসার ওশান থমাস। একের পর এক নো বল করায় একটি বৈধ বল থেকেই আসে ১৫ রান, যা এক বলে সবচেয়ে বেশি রান নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক বলে ১৩ রান নেওয়ার রেকর্ড ছিল ভারতের যশস্বী জয়সওয়ালের। প্রথম ওভার থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে চিটাগং। নাঈম ইসলাম (১২), পারভেজ ইমন (১৩), উসমান খান (১৮), অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন (৬), হায়দার আলী (০) রানে আউট হন। ছয়ে নেমে শামীম পাটোয়ারী খেলেন ৩৮ বলে ৭ চার ৫ ছক্কায় ৭৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। কিন্তু দলকে জেতাতে পারেননি। সাত নম্বর ব্যাটার টম ও’কনেল মাঠে নামতে দেরি করায় টাইমড আউটের আবেদন করেন খুলনা অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আম্পায়ারও আঙুল তুলে দেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন না হলে সাকিব এবার চিটাগংয়ের হয়ে এই ম্যাচ খেলতেন এবং নিজ দলের বিপক্ষেই দেখতেন টাইমড আউটের আবেদন। অবশ্য মিরাজ পরে টাইমড আউটের আবেদন প্রত্যাহার করে ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু প্রথম বলেই ‘গোল্ডেন ডাক’ মারেন ও’কনেল।

নিঃসঙ্গ শামীম আউট হন নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে। ১৮.৫ ওভারে ১৬৬ রানেই থামে চিটাগংয়ের ইনিংস। আবু হায়দার রানি নেন ৪৪ রানে ৪ উইকেট।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত